নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীর চরের জাজিরা এলাকা থেকে মো. আজিজুল হক ঝড়ু নামের এক যুবকের গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, রাজশাহীর বাঘা ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে বালুমহলের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে হওয়া গোলাগুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন।
নিহত ঝড়ু বাগাতিপাড়া উপজেলার পাবনাপাড়া গ্রামের আব্দুল শেখের ছেলে এবং তিনি স্থানীয় কাকন বাহিনীর বালুমহালের কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোররাতে রাজশাহীর বাঘা থানার হবির চর এলাকায় বেলাল গ্রুপ ও কাকন গ্রুপের মধ্যে বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাপক গোলাগুলি হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পদ্মা নদীর বিভিন্ন চরাঞ্চলে দিনভর অনুসন্ধান চালান। একপর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চরজাজিরা এলাকায় নদীর তীরে পরিত্যক্ত একটি স্পিডবোটের ভেতর থেকে ঝড়ুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, নিহতের বাম চোখের ওপরে গুলির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং গুলিটি মাথা ভেদ করে বেরিয়ে গেছে।
ঘটনাস্থল থেকে একটি স্পিডবোট জব্দ করা হয়েছে এবং লক্ষীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাঘা উপজেলার বেলাল গ্রুপের সঙ্গে বালুমহলের দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।