সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিএসএফের ধারাবাহিক পুশইন চেষ্টার বিরুদ্ধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় জনগণের যৌথ প্রতিরোধ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান। সোমবার রাতে দেওয়া তাঁর এই ফেসবুক পোস্টটি ইতোমধ্যে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে এবং নেটিজেনদের মাঝে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গত বুধবার থেকে শনিবারের মধ্যে বিজিবি বিএসএফের ২১টি পুশইন চেষ্টা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে প্রতিহত করেছে এবং দুই শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশইনের হাত থেকে রক্ষা করা হয়েছে। ঝিনাইদহের মহেশপুর, লালমনিরহাটের আদিতমারী, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম এবং পঞ্চগড় সীমান্তের বিভিন্ন লোমহর্ষক চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, রাতের অন্ধকারে কিংবা প্রিজন ভ্যানে করে উপযুক্ত যাচাই প্রক্রিয়া ছাড়াই মানুষ ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিএসএফ।
পঞ্চগড় সীমান্তে ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় খোলা আকাশের নিচে রোদে-বৃষ্টিতে নারী-শিশুসহ আটকে থাকা একটি দলকেও অবশেষে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে ভারত। এই প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হিসেবে তিনি বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষের রাত জেগে যৌথ টহল দেওয়া, মেগাফোন ও সার্চলাইট নিয়ে পাহারা দেওয়া এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকে সীমান্ত রক্ষা করার ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রশংসা করেন।
বিগত সরকারের আমলের দুর্বল সীমান্ত নীতির বাইরে এসে বর্তমানে বিজিবির ২৬টি জেলার সীমান্তে চার শিফটে ২৪ ঘণ্টা টহল দেওয়ার এই নতুন মনোবলকে তিনি সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক নীরব বিপ্লব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।