রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরাণীগঞ্জ ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর মহিলা কারাগারের 'কনডেম সেলে' রাখা হয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ফাঁসির অন্যান্য আসামিদের মতো তাদেরও কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে এবং মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বিবেচনায় সেলে তাদের একা না রেখে আরও ২ থেকে ৫ জনের সাথে রাখা হয়েছে।
এদিকে মাত্র ৬ কার্যদিবসে ঘোষিত দেশের ইতিহাসের অন্যতম দ্রুততম এই রায়ের ৬৬ পাতার কপি ও পুরো মামলার নথি আজই উচ্চ আদালতের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ। আইনানুসারে নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য হাইকোর্টের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকায় এই ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হচ্ছে, যার শুনানি শেষে দ্রুত সাজা কার্যকর হবে বলে আশা করছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।
অন্যদিকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সচিবালয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, বিশেষ অগ্রাধিকার বা ফাস্ট ট্র্যাকের মাধ্যমে আগামী তিন মাসের মধ্যেই রামিসা হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব।
গত ১৯ মে ঘটে যাওয়া এই লোমহর্ষক ঘটনার পর মাত্র ৫ দিনে চার্জশিট দাখিল, ছুটির মধ্যেও আদালতের বিশেষ তৎপরতা এবং ১ জুন থেকে শুরু করে মাত্র এক সপ্তাহের শুনানিতে গত রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের মৃত্যুদণ্ডসহ অর্থদণ্ডের এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।