দীর্ঘ এক দশকের নানা জটিলতা ও স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রস্তাবিত চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরের আগেই বহুল প্রতীক্ষিত এই চার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন মিলতে পারে।
আজ মঙ্গলবার নতুন সরকারের চতুর্থ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (নেক) সভায় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি উত্থাপন করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সরকারি ভিত্তিতে (জি-টু-জি) প্রায় ৭৮৩ একর জমির ওপর এই বিশেষ অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলা হবে, যার মাধ্যমে দেশে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপুল বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে এবং অন্তত এক লাখ মানুষের বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হয়ে ২০৩১ সালের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে বাংলাদেশ সরকার জোগান দেবে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং বাকি ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা আসবে চীনা সহায়তা থেকে।
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হয়ে ২০৩১ সালের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে বাংলাদেশ সরকার জোগান দেবে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং বাকি ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা আসবে চীনা সহায়তা থেকে।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের অধীনে ভূমি উন্নয়ন ছাড়াও ২০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, ১২ মিটার প্রশস্ত সড়ক, ১২ কিলোমিটার সীমানাপ্রাচীর, ১ হাজার ২০০ মিটার দীর্ঘ জেটি এবং ২ কিলোমিটার গ্যাস লাইনসহ পানি সংরক্ষণাগার ও ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে। তবে এই বিশাল প্রকল্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ঢাকা সফরের সময় এই অর্থনৈতিক জোন স্থাপনের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। তবে শুরুতে দায়িত্ব পাওয়া চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া এবং পরবর্তীতে ঘুষের প্রস্তাবের মতো গুরুতর অভিযোগে প্রকল্পটির কাজ বছরের পর বছর ঝুলে থাকে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ঢাকা সফরের সময় এই অর্থনৈতিক জোন স্থাপনের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। তবে শুরুতে দায়িত্ব পাওয়া চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া এবং পরবর্তীতে ঘুষের প্রস্তাবের মতো গুরুতর অভিযোগে প্রকল্পটির কাজ বছরের পর বছর ঝুলে থাকে।
অবশেষে ২০২২ সালে চীনা সরকারের পক্ষ থেকে 'চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন'কে (সিআরবিসি) নতুন ডেভেলপার মনোনীত করার পর স্থবিরতা কাটে। নতুন চুক্তিতে বেজা ৩০ শতাংশ এবং চীনা প্রতিষ্ঠানটি ৭০ শতাংশ মালিকানা নিয়ে যৌথ কোম্পানি গঠন করেছে।
ইতিমধ্যে চামড়া, হালকা প্রকৌশল, মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক খাতসহ শতাধিক চীনা প্রতিষ্ঠান এখানে কারখানা স্থাপনে আগ্রহ দেখিয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের ঋণ প্রতিশ্রুতি কমে এলেও প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরের আগে এই প্রকল্পের অনুমোদন বেইজিংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে ঢাকার জন্য একটি বড় ট্রাম্পকার্ড হিসেবে কাজ করবে।