লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি ভাড়া বাসায় তিন মেয়েসহ মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত ঘাতক যুবকও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে সবাই মারা যান বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক এবং রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম। নিহতরা হলেন মা শাহিনুর বেগম, তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার, মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার।
অন্যদিকে গণপিটুনিতে নিহত ঘাতক অন্তর মজুমদার নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বাসিন্দা এবং রায়পুরের একজন ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ী ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শাহীনুর বেগম দীর্ঘ এক যুগ ধরে রায়পুরে ভাড়া বাসায় সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে ঘাতক অন্তর ওই বাসায় ঢুকে আকস্মিক সবাইকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় এক প্রতিবেশীর বুদ্ধিমত্তায় কলাপসিবল গেট আটকে স্থানীয়দের খবর দিলে জনতা ঘাতককে ধরে গণপিটুনি দেয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর দুই মেয়ে ও মাসহ চারজনই মারা যান। এদিকে ঘটনার সময় উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ইটপাটকেলের আঘাতে ৬-৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
তবে ঘাতক অন্তর পূর্বে ওই বাড়িরই ভাড়াটিয়া ছিল বলে জানা গেলেও, ঠিক কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা এখনো উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।