নাটোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই বছর বয়সি এক শিশুর মাকে প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগকৃত তিন সুইপার অমিত, অনিল ও প্রাঙ্গনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুন অসুস্থ শিশুকন্যাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর, ৭ জুন সকালে স্টাফ পরিচয়ে অভিযুক্ত অমিত ওষুধের কথা বলে ভুক্তভোগী নারীকে হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় ডেকে নিয়ে যান।
সেখানে অনিল ও প্রাঙ্গনের সহায়তায় অমিত ওই নারীকে ধর্ষণ করেন এবং পুরো ঘটনার ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
শিশুটির কান্নাকাটিতে নার্সরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আনসার সদস্যদের জানালে, তারা দ্রুত ষষ্ঠ তলার সিঁড়ি থেকে ওই নারীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের আটক করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।
তবে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী নারীকে আইনি পদক্ষেপ না নিতে চাপ দেয় এবং অভিযুক্তদের শুধু শাসিয়ে ছেড়ে দেয় বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. আরশেদ আলী।
পরবর্তীতে এই ঘটনাটি প্রকাশ পেলে মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী নাটোর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যা পরে নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।
নাটোরের পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক এবং সদর থানার ওসি মুনসুর রহমান জানিয়েছেন, মামলা রুজু করে ইতিমধ্যেই ভুক্তভোগীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের জোরদার অভিযান চলছে।