জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো পরিস্থিতিতেই অমুসলিম নাগরিকরা ভয়ের সংস্কৃতিতে থাকবে—এমন পরিবেশ আমরা চাই না। সেই ভয়ভিত্তিক সংস্কৃতিকে গুড়িয়ে দিতে চাই। এ দেশ আমাদের সবার। সবাইকে নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যাব।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে নওগাঁ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে জামায়াত আমির বলেন, যারা সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে বেশি হইচই করতেন, সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকার গাইবান্দার সাহেবগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীতে কী করেছে—আপনারা কি দেখেননি? তারা কি আমাদের ভাই-বোন নয়? তারা কি এ দেশের নাগরিক নয়? আমরা কথা দিচ্ছি—সবাইকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাব। সকলের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
নারীদের ঘরে ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, মায়েদের জন্য ঘরে, চলাচলে ও কর্মস্থলে সর্বত্র মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কোনো জালিম সাহস করবে না নারী জাতির কারও দিকে চোখ তুলে তাকাতে। সেই পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। এখন অনেকেই অস্থির হয়ে পড়ছে। ভাই, মাঘ মাসে মাথা গরম করবেন না—চৈত্র মাস সামনে। মাথা ঠান্ডা রাখুন, মানুষের কথা কান পেতে শুনুন। দেশ বাঁচলে আপনিও বাঁচবেন। এই ভোট হবে ইনশাআল্লাহ ইনসাফের প্রতীক।
তিনি আরও বলেন, নারীদের হুমকি দেওয়া বা গায়ে হাত তোলা বন্ধ না করলে আবারও মানুষ গর্জে উঠবে। মায়ের অপমান কেউ সহ্য করবে না।
শফিকুর রহমান বলেন, শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে—এমন রাজনীতি আর চলবে না। রিকশাচালকের সন্তানও মেধা দিয়ে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে—এমন বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই। এতে জমিদারি রাজনীতি ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।
ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের কোনো প্রশ্রয় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি আমরা করি না, কাউকে করতেও দেব না। দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দেওয়া হবে না। ব্যাংক ডাকাতদের সঙ্গে কোনো আপস হবে না। মামলাবাজি আমাদের কাজ নয়—মামলাবাণিজ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা নিজেদের পকেট ভরেছে, ব্যাংক-বিমা লুট করেছে, মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্নীতি করেছে এবং টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ক্ষমতায় গেলে এসব চোরদের পাচার করা টাকা দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
উত্তরবঙ্গকে কৃষির রাজধানী উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মোট উৎপাদনের বড় অংশ নওগাঁ থেকেই আসে, অথচ জেলা তার ন্যায্য পাওনা পায়নি। নওগাঁ শহরের প্রধান সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে। ফল সংরক্ষণের জন্য হিমাগার, ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা হবে এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সংরক্ষণ করে পর্যটন শিল্প বিকশিত করা হবে।
নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমির ও নওগাঁ–৪ আসনের প্রার্থী আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা সেক্রেটারি ও নওগাঁ–৫ আসনের প্রার্থী আ স ম সায়েমসহ বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।