অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে বিয়ে, ব্যভিচার ও মানহানির আলোচিত মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে সম্পূর্ণ খালাস দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় নাসির ও তামিমা উভয়ই আদালতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির পৃথক ধারায় আনীত অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের মামলার দায় থেকে অব্যাহতি ও খালাস দেওয়া হলো।
এর আগে গত ৬ মে উভয় পক্ষের দীর্ঘ যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিনটি ধার্য করা হয়েছিল। শুনানিতে আসামিপক্ষ নিজেদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের আবেদন জানায়, অন্যদিকে বাদীপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করেছিল।
আদালত ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাম্মির সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল, ২০১১ সালে তাম্মি ও রাকিবের বিয়ে হয় এবং তাদের ঘরে আট বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
আদালত ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাম্মির সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল, ২০১১ সালে তাম্মি ও রাকিবের বিয়ে হয় এবং তাদের ঘরে আট বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পেশায় কেবিন ক্রু তাম্মি ২০২১ সালের ভালোবাসা দিবসে (১৪ ফেব্রুয়ারি) ক্রিকেটার নাসির হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাকিবের নজরে আসে। রাকিবের দাবি ছিল, তার সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থাতেই তাম্মি রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় আইন লঙ্ঘন করে নাসিরকে বিয়ে করেছেন এবং নাসির তাকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন। এই ঘটনার কারণে তিনি এবং তার কন্যা মারাত্মক মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েন এবং সমাজে তার চরম মানহানি ঘটে।
দীর্ঘ ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ে নানা নাটকীয়তা তৈরি হয়েছিল। ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলেও নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে উভয় পক্ষের রিভিশন আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে বিচার চালু রাখার নির্দেশ দেন।
দীর্ঘ ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ে নানা নাটকীয়তা তৈরি হয়েছিল। ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলেও নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে উভয় পক্ষের রিভিশন আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে বিচার চালু রাখার নির্দেশ দেন।
মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শেষে আজ এই চূড়ান্ত রায় এলো। রায় প্রসঙ্গে বাদী রাকিব হাসান আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, কেউ যেন চাইলেই অন্যের স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে যেতে না পারে, সেই ন্যায়বিচারের আশায় তিনি পাঁচ বছর ধরে লড়াই করেছিলেন।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং শেষ পর্যন্ত আদালত তথ্য-প্রমাণের অভাব ও সন্দেহের সুবিধা দিয়ে নাসির-তামিমাকে নির্দোষ ঘোষণা করলেন।