বগুড়ার হাজারো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ‘রতন-সুমন গ্যাং’ নামের এক সন্ত্রাসী চক্রের ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ গ্যাংয়ের রয়েছে গোপন টর্চার সেল—যেখানে মানুষকে অপহরণ করে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও মুক্তিপণের নামে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া শহরের মালতিনগর দক্ষিণপাড়া এলাকার এক বৃদ্ধার বাড়ি থেকেই এই গ্যাংয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ওই বাড়িটিও রতন ও সুমন দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, তাদের অত্যাচারে পুরো বগুড়া এখন আতঙ্কে নিস্তব্ধ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট স্থান থেকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। এরপর টর্চার সেলে আটকে রেখে পরিবারের কাছে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়—যার পরিমাণ সাধারণত কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত হয়।
সাম্প্রতিক সেনাবাহিনীর অভিযানে উদ্ধার হওয়া ধারালো অস্ত্র ও কুড়াল এই গ্যাংয়ের নৃশংসতার সাক্ষ্য বহন করছে। প্রায় ৩০ জনের সমন্বয়ে গঠিত এই গ্যাং অতীতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে প্রভাব বিস্তার করেছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তারা আবারও নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে অপরাধচক্র গড়ে তোলে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভয়ভীতির কারণে কেউই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। এক দোকানদার বলেন, “আমরা কিছু বললেই তারা আমাদের মেরে ফেলবে।”
বগুড়া সদর থানার ওসি হাসান বাশির জানান, “রতন-সুমন গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। খুব দ্রুতই তাদের গ্রেফতার করা হবে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্যাং সদস্যদের গতিবিধি নজরদারিতে রয়েছে এবং দ্রুত গ্রেফতারের লক্ষ্যে বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে।
আতঙ্কিত এলাকাবাসীর একটাই দাবি—রতন-সুমন গ্যাংয়ের সকল সদস্যকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে কেউ আর এভাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ভয় ও অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে না পারে।