Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / আঞ্চলিক / বগুড়ায় নতুন বিয়ের অর্ধেকই গড়াচ্ছে বিচ্ছেদে - Chief TV

বগুড়ায় নতুন বিয়ের অর্ধেকই গড়াচ্ছে বিচ্ছেদে - Chief TV

2025-10-26  ডেস্ক রিপোর্ট  145 views
বগুড়ায় নতুন বিয়ের অর্ধেকই গড়াচ্ছে বিচ্ছেদে - Chief TV

বগুড়ায় ক্রমেই বাড়ছে দাম্পত্য জীবনের অস্থিরতা। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, জেলায় প্রতি বছর যত বিয়ে হচ্ছে, তার প্রায় অর্ধেকই শেষ হচ্ছে তালাকের মাধ্যমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরকীয়া, মাদকাসক্তি, যৌতুক, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, মতের অমিল ও পারস্পরিক অবিশ্বাস—এসব কারণেই ভাঙছে সংসার।

নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত শ্রেণিতেও এই প্রবণতা সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামাঞ্চলে স্বামীদের মাদক ও জুয়ায় আসক্তি তালাকের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। অন্যদিকে শহরে অহংবোধ, পরকীয়া এবং মানসিক দূরত্বই সম্পর্ক ভাঙনের প্রধান কারণ। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দম্পতিদের সন্তানরা, যারা বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছে এবং সামাজিকভাবে অনিরাপত্তায় ভুগছে।

বগুড়া জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে জেলায় নতুন বিয়ে নিবন্ধিত হয়েছে ৮০ হাজার ৫২৭টি, আর তালাক হয়েছে ৩৮ হাজার ৪০৮টি। অর্থাৎ, প্রতি দুইটি বিয়ের মধ্যে একটি তালাকে গড়াচ্ছে।
২০১৯-২০ অর্থবছরে বিয়ে হয়েছিল ১৬ হাজার ৬৪৫টি, তালাক ৭ হাজার ৮৫৫টি;
২০২০-২১ সালে বিয়ে ১৪ হাজার ৮৯০টি, তালাক ৬ হাজার ৮৩০টি;
২০২১-২২ সালে বিয়ে ১৫ হাজার ৮০টি, তালাক ৭ হাজার ৩৫৫টি।

তথ্য বলছে, তালাকের উদ্যোগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারীদের পক্ষ থেকেই আসছে। শহরাঞ্চলে বগুড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে এবং গ্রামাঞ্চলে কাহালু উপজেলার মুরইল ইউনিয়নে তালাকের হার সবচেয়ে বেশি।

মুরইল ইউনিয়নের কাজি বেলাল হোসেন বলেন, “অনেক পুরুষ জুয়া ও নেশায় আসক্ত হয়ে আর সংসারের দায়িত্ব নিতে পারে না, ফলে বিবাহবিচ্ছেদ অনিবার্য হয়ে পড়ে।”

বগুড়ার বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের সভানেত্রী ফজিলাতুনন্নেছা ফৌজিয়া মনে করেন, “নেশা ও পরকীয়া তালাকের সবচেয়ে বড় দুটি কারণ। আবার নারীরা এখন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন, ফলে তারা মানসিকভাবে সহজে আপস করতে চান না।”

সমাজকর্মী ও শিশু আদালতের পিপি সুফিয়া বেগম বলেন, “বাবা-মার বিচ্ছেদের সবচেয়ে বড় শিকার শিশুরা। মা-বাবা নতুন জীবন শুরু করতে পারলেও সন্তানরা থেকে যায় মানসিক শূন্যতায়।”

সমাজ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেশা, যৌতুকের দাবি, পরকীয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, সন্দেহ, প্রবাসে থাকা স্বামীদের সঙ্গে দূরত্ব, সন্তান না হওয়া বা ছেলে সন্তান না জন্মানো, ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়—এসব কারণেই আজ সংসার ভাঙছে আগের চেয়ে অনেক বেশি।

বগুড়ার নামুজা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক রফিকুল ইসলাম ভাণ্ডারি বলেন, “বর্তমান প্রজন্ম সহনশীলতার জায়গা হারিয়ে ফেলেছে। দাম্পত্য সম্পর্কে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ধৈর্য না থাকায় সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে।”

বগুড়া জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাবের মতে, “ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, যৌথ পরিবারের অভাব ও নারীর আর্থিক স্বাধীনতা তালাকের হার বাড়িয়ে দিয়েছে।”

জেলা রেজিস্ট্রার সিরাজুল করিম বলেন, “নারীদের সচেতনতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বিয়ের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার মানসিকতা কমে গেছে। তবে একটি সংসার ভেঙে গেলে সন্তানের ভবিষ্যতের ওপর গভীর প্রভাব পড়ে। তাই উভয় পক্ষকেই সহনশীল হতে হবে।”


Share: