বগুড়ার ধুনট থানাকে দালালমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আতিকুল ইসলাম। থানায় যোগদানের পর থেকেই তিনি থানায় সকল প্রকার দালালদের আনাগোনা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।
এ সময় তিনি থানার সকল অফিসার ও ফোর্সদের উদ্দেশ্যে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, কোনো পুলিশের অফিসার বা সদস্য যদি দালালদের সঙ্গে কোনো প্রকার সম্পৃক্ততায় জড়িত থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নবাগত ওসি আতিকুল ইসলামের এই উদ্যোগে থানায় সেবাপ্রার্থীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, দালালমুক্ত পরিবেশে এখন থানার সেবা আরও স্বচ্ছ, সহজ ও হয়রানিমুক্ত হবে।
থানায় আসা কয়েকজন ভুক্তভোগী, যারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, সংবাদকর্মীদের জানান" গ্রামগঞ্জ থেকে আসা আমাদের মতো সহজ-সরল মানুষ আগে দালালদের খপ্পরে পড়ে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এখন বুঝতে পারছি, থানায় কোনো কাজ করতে অর্থ লাগে না। আমরা সরাসরি ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ, মনোযোগ দিয়ে কথা শুনেছেন এবং সঠিক পরামর্শ দিয়েছেন। তার ব্যবহারে আমরা খুবই সন্তুষ্ট। আমরা চাই, কোনো দালাল যেন এই থানায় ঠাঁই না পায়। দালালদের কারণে আমরা আগে অর্থনৈতিক ক্ষতি ও হয়রানির শিকার হয়েছি। কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য দালালদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
থানার আশপাশের লোকজন বলেন, আগে প্রতিদিন থানায় অনেক দালাল ও অপ্রয়োজনীয় লোকের আনাগোনা দেখা যেত। বর্তমানে এমন চিত্র আর দেখা যায় না। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভুক্তভোগীরা এখন সরাসরি ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার সমাধান পাচ্ছেন এবং সঠিক দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন।
দালালমুক্ত থানা হওয়ায় আমরা অত্যন্ত খুশি। ভবিষ্যতেও যেন কোনো দালাল এই থানায় ঠাঁই না পায়, সে বিষয়ে আমরা ওসি সাহেবকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাই। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ যেন সঠিক সেবা পান, কেউ যেন মিথ্যা মামলার শিকার না হন এবং কোনো অসৎ কর্মকর্তার কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে না পড়েন— সে বিষয়েও আমরা আশাবাদী।