সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টে ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ৪–১ ব্যবধানে অ্যাশেজ সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া তোলে ৫৬৭ রান। জবাবে ইংল্যান্ড করে ৩৮৪ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ৩৪২ রান, যার বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান তুলে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরুটা করেছিল দারুণভাবে। ৬২ রানে কোনো উইকেট না হারালেও হঠাৎ ছন্দপতন ঘটে এবং দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৯ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচে নাটকীয়তা তৈরি হয়।
টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলতে নামা উসমান খাজা রূপকথার বিদায় দিতে পারেননি। লাঞ্চের পর মাঠে নামার সময় দলের প্রয়োজন ছিল ৬৮ রান। সতীর্থদের আলিঙ্গন ও ইংল্যান্ড দলের গার্ড অব অনারের মধ্য দিয়ে মাঠে নামলেও তিনি জশ টাংয়ের বলে মাত্র ৬ রান করে আউট হন। টাং ইনিংসে নেন ৩ উইকেট, খরচ করেন ৪২ রান।
খাজা ফিরে যাওয়ার আগে সেজদা করে দর্শকদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন, যা আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করে। এর কিছুক্ষণ পর স্টিভেন স্মিথ উইল জ্যাকসের অফস্পিনে বোল্ড হলে আবার চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। পরে মার্নাস লাবুশান ৩৮ রান করে আউট হলে উত্তেজনা চরমে ওঠে।
তবে সিরিজজুড়ে ধারাবাহিক পারফরমার অ্যালেক্স ক্যারি এবং চাপের মুখে থাকা ক্যামেরন গ্রিন দৃঢ়তায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন। দুজন মিলে গুরুত্বপূর্ণ ৪০ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ক্যারি একটি বাউন্ডারিতে জয় নিশ্চিত করেন।
ইংল্যান্ডের পক্ষে শেষ দিনে বেন স্টোকস চোটের কারণে বোলিং করতে না পারায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ কমে যায়। শুরুতেই এলবিডব্লিউ আপিলের বন্যা বইলেও একটি রিভিউ নষ্ট করে ফেলে সফরকারীরা। ট্রাভিস হেড আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে দ্রুত রান তুললেও ২৯ রানে আউট হন। সিরিজে তার মোট রান ৬২৯, গড় ৬২.৯০—অ্যাশেজে কোনো অস্ট্রেলিয়ানের নবম সর্বোচ্চ।
এর আগে ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে জ্যাকব বেথেলের দুর্দান্ত ১৫৪ রানের ওপর ভর করে ম্যাচে লড়াই জিইয়ে রাখে। একাধিকবার ডিআরএসে বেঁচে গেলেও শেষ পর্যন্ত মিচেল স্টার্কের বলে আউট হন বেথেল। স্টার্ক পুরো সিরিজে নেন ৩১ উইকেট—২০১৩–১৪ অ্যাশেজে মিচেল জনসনের ৩৭ উইকেটের পর সর্বোচ্চ।
মাত্র ১৮ দিনে শেষ হওয়া এই অ্যাশেজ সিরিজে মাঝেমধ্যে অগোছালো ক্রিকেট দেখা গেলেও অভিজ্ঞতা, শৃঙ্খলা ও চাপ সামলানোর দক্ষতায় স্পষ্টভাবে এগিয়ে ছিল অস্ট্রেলিয়া। ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ট্রাভিস হেড, অ্যালেক্স ক্যারি ও মিচেল স্টার্কের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ডকে পেছনে ফেলে সিরিজে পূর্ণ আধিপত্য দেখায় স্বাগতিকরা।