আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে ভিসা জটিলতায় পড়েছে অংশগ্রহণকারী কয়েকটি দল। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের হয়ে খেলা পাক–বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারদের ভারতে প্রবেশের ভিসা পেতে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বিষয়টি দ্রুত সমাধানে সক্রিয় হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভিসা প্রক্রিয়া তদারকি করছে। ইংল্যান্ড দলের আদিল রশিদ, রেহান আহমেদ ও সাকিব মাহমুদ, যুক্তরাষ্ট্রের আলি খান ও শায়ান জাহাঙ্গির এবং নেদারল্যান্ডসের জুলফিকর সাকিবসহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার পাক–বংশোদ্ভূত। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালি ও কানাডার দলেও এমন ক্রিকেটার রয়েছেন। সব মিলিয়ে এবারের আসরে প্রায় ৪২ জন পাক–বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারের অংশ নেওয়ার কথা।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ভিসা সংক্রান্ত কোনো জটিলতা যাতে টুর্নামেন্টে প্রভাব না ফেলে, সে জন্য পুরো প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আইসিসি। ইতোমধ্যে ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ, রেহান আহমেদ ও সাকিব মাহমুদ ভিসা পেয়েছেন। পাশাপাশি নেদারল্যান্ডসের এক ক্রিকেটার এবং কানাডা দলের সাপোর্ট স্টাফ শাহ সালিম জাফরও ভারতে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন। বাকি ক্রিকেটারদের ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে এবং আগামী সপ্তাহের শুরুতেই তারা অনুমতি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের ভিসা নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে জন্মসূত্রে যে দেশের নাগরিক, সেই দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভিসার আবেদন করতে হয়। এ কারণে অনেক ক্রিকেটারকে পাকিস্তানের পাসপোর্টে আবেদন করতে হয়েছে, যা থেকেই মূলত জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইসিসি বিভিন্ন দেশের ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে, যাতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রজনিত কোনো সমস্যা না হয়।
এর আগে এমন পরিস্থিতির উদাহরণ রয়েছে। ২০১৯ সালে পাক–বংশোদ্ভূত সিকান্দার ও সাকিব জুলফিকর এবং ২০২৩ সালে শিরাজ আহমেদ ভারতে খেলার ভিসা পাননি। একইভাবে ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার উসমান খোয়াজা এবং ২০২৪ সালে ইংল্যান্ডের রেহান আহমেদ ও শোয়েব বশির ভিসা জটিলতায় পড়েছিলেন। এবারের বিশ্বকাপে যেন সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে আইসিসি।