Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / রাজশাহী বিভাগ / সারাদেশ / বগুড়া / বগুড়ার শেরপুরে অপরিকল্পিত খননে বাঙালী নদীর ভাঙন, অর্ধশত বসতবাড়ি বিলীন - Chief TV

বগুড়ার শেরপুরে অপরিকল্পিত খননে বাঙালী নদীর ভাঙন, অর্ধশত বসতবাড়ি বিলীন - Chief TV

2025-12-02  এম. এ. রাশেদ, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি  232 views
বগুড়ার শেরপুরে অপরিকল্পিত খননে বাঙালী নদীর ভাঙন, অর্ধশত বসতবাড়ি বিলীন - Chief TV

বগুড়ার শেরপুরে বাঙালী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে উপজেলার তিনটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অপরিকল্পিত নদী খননের প্রভাবেই সীমাবাড়ি ইউনিয়নের ঘাশুড়িয়া ও নলুয়া এবং সুঘাট ইউনিয়নের চকপাহাড়ি গ্রামে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। গত দুই মাসে শুধু ঘাশুড়িয়া গ্রামেই অন্তত ১৫ বিঘা জমি এবং অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি নদীতে তলিয়ে গেছে। ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরও।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে বাঙালী নদী খননের সময় মানচিত্র অনুযায়ী নদীর মূল প্রবাহ থেকে প্রায় ৬০০ ফুট দক্ষিণে সরে গিয়ে লোকালয় ও ফসলি জমির পাশ ঘেঁষে গভীর কাট তৈরি করা হয়। গ্রামবাসীর লিখিত অভিযোগ সত্ত্বেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাতে কর্ণপাত করেনি। এরই বিরূপ প্রভাবে বর্তমানে নদীপাড়ের শত শত পরিবার নিঃস্ব হওয়ার পথে।

‎সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ঘাশুড়িয়া গ্রামে। গত দুই মাসে এ গ্রামের অন্তত ৫০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়ে ভিক্ষুকের দশায় পড়েছে। দিনমজুর আব্দুস সাত্তার বলেন, “নদী যেখানে ছিল সেখানেই যদি খনন হতো, আজ আমার সর্বনাশ হতো না। চোখের সামনে আমার বাড়িটা নদীতে চলে গেল। এখন অন্যের জমিতে ছাপড়া তুলে থাকতে হচ্ছে।” তাঁর ভাই আব্দুস সালামসহ অনেক কৃষকই এখন ভূমিহীন।

‎সুঘাট ইউনিয়নের চকপাহাড়ি গ্রামেও ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর তীরে থাকা ১১টি বাড়ি ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪টি ঘর চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষায় তারা এখন গভীর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সীমাবাড়ি ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামেও ভাঙন ছড়িয়ে পড়েছে।

‎কৃষকদের অভিযোগ, নদী থেকে সেচযন্ত্রের মাধ্যমে পানি তুলে তিন গ্রামের মোট ৫০০ বিঘা জমিতে কৃষিকাজ করা হতো। কিন্তু ভাঙনে সেচ ঘরগুলো নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় আসন্ন মৌসুমে চাষাবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঘাশুড়িয়া গ্রামের নূরে আলম ও আফছার আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রশাসন যদি অভিযোগের প্রেক্ষিতে সময়মতো ব্যবস্থা নিত, তাহলে আজ গ্রামগুলো ধ্বংসের মুখে পড়ত না।”

‎শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুরুল আলম জানান, ভাঙন পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। এ বিষয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানানো হবে।

‎বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।


Share: