বর্তমানে দেশে মাদক সেবনকারীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে আনুমানিক ৮২ লাখে পৌঁছেছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস লিমিটেডের যৌথ এক গবেষণায় এই ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, দেশের মাদকসেবীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশই গাঁজা সেবন করেন, যার সংখ্যা প্রায় ৬১ লাখ। এছাড়া ইয়াবা, অ্যালকোহল ও হেরোইনের মতো মারাত্মক মাদকের বিস্তারও আশঙ্কাজনক।
ভৌগোলিক বিচারে ময়মনসিংহ, রংপুর ও চট্টগ্রামে মাদক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি হলেও সংখ্যার দিক থেকে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ প্রায় ২২.৯ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মাদকসেবীদের একটি বিশাল অংশই তরুণ এবং এদের বড় অংশই ৮ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছে।
বেকারত্ব, পারিবারিক অস্থিরতা ও মানসিক চাপের কারণে এই প্রবণতা বাড়ছে এবং প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন যে দেশে মাদক খুবই সহজলভ্য। এই বিশাল মাদকসেবী জনগোষ্ঠীর বিপরীতে মাত্র ১৩ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা বা পুনর্বাসনের সুযোগ পাচ্ছেন।
যদিও আক্রান্তদের একটি বড় অংশই সুস্থ জীবনে ফিরতে কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসন সেবা চেয়েছেন।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক সমস্যাকে কেবল আইনশৃঙ্খলা দিয়ে নয়, বরং জটিল জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। সরকার অবশ্য ইতিমধ্যেই দেশের সাতটি বিভাগে ২০০ শয্যার পুনর্বাসন কেন্দ্র চালুর অনুমোদন দিয়েছে।