দেশের সব ভালো অর্জন বিএনপির বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘যুগসন্ধিক্ষণে আছি আমরা। অনেক বাধা আসছে, এসব পেরিয়ে সাফল্য অর্জন করতে হবে। আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে। সাইবার যুদ্ধে লড়াই করতে না পারলে আমাদের পরাজিত হতে হবে।’
রোববার (৭ ডিসেম্বর) কৃষিবিদ ইনষ্টিটিউশন মিলনায়তনে দলটির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী ধর্মের নামে বিভাজনের পথ তৈরি করতে চায়। ধর্মকে দিয়ে রাষ্ট্র আর সমাজে বিভাজন আমরা বিশ্বাস করি না। সবার আগে বাংলাদেশ মাথায় গেঁথে নিতে হবে। সমস্ত অপপ্রয়াস পেরিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করবে ছাত্রদল।’
ছাত্রদলকে নতুন চিন্তার আলোকে তৈরি করার কথা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই দেশ গড়ার কর্মসূচি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিজস্ব ভাবনার প্রতিফলন। পরিবর্তন সবাই চায়। নতুন বাংলাদেশ দেখতে চাওয়ার ভাবনা সবার মধ্যেই এসেছে। পুরনো রাষ্ট্র কাঠামো আর উপযোগী থাকছে না।’
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়ে গেছে-উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নতুন করে আলোকিত করার চেষ্টা করছেন। জনগণের কাছে নতুন চিন্তা তুলে ধরার দায়িত্ব শুরুতেই ছাত্রদলকে দেওয়া হচ্ছে।’
এ সময় তারেক রহমান নতুন বাংলাদেশে দেড় বছরে এক কোটি লোকের কাজের সংস্থান করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানান বিএনপি মহসিচব। তিনি বলেন, ‘দেশ গড়ার কর্মসূচির এই পরিকল্পনা প্রমাণ করছে বিএনপি একটি অ্যাডভান্সড পলিটিক্যাল পার্টি। বর্তমানে বিএনপিকে নেগেটিভ পলিটিক্যাল পার্টি হিসেবে দেখানোর একটি প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যা ভেঙে ফেলতে হবে। বিএনপি সবসময়ই পথ, জানালা খুলে দিয়েছে।’
বিএনপির দেওয়া ৩১ দফা নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গ্রামে আমাদের ৩১ দফা সেভাবে পৌঁছায়নি। তবে এই দেশ গড়ার কর্মসূচিতে যেগুলো রয়েছে, সেগুলো পৌঁছে দিতে পারলে সফলতা আসবে।’
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তারেক রহমান নিজেই পুরো চিকিৎসা কার্যক্রম তদারকি করছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চিকিৎসা করছেন। এত মানুষের প্রার্থনা স্রষ্টা নিশ্চয়ই কবুল করবেন।