ঢাকা–১৩ আসনে এগারো দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী আল্লামা মামুনুল হক-এর প্রতীক রিকশা মার্কার প্রচার ও প্রসারে আজ এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে (কবরস্থান সংলগ্ন মাঠ)। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সংগঠক, লাখো তরুণের নেতা, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও ভাসানীখ্যাত মো. নাহিদ ইসলাম। সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা–১৩ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মাহফুজুল হক। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
উল্লেখ্য, মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগরের আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা–১৩ আসনে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা চার লক্ষাধিক। তবে এ আসনের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটার প্রথমবার ভোটার হন ২০০৮ সালে। সে সময় এলাকার প্রায় ৮০ শতাংশ ছিল বস্তিপ্রধান এবং ভোটারদের বড় একটি অংশ ছিলেন নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ।
আমি নিজে সে সময় মোহাম্মদপুরের সাবেক ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং ‘কলম কলি জনসংগঠন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে অন্তত পাঁচ হাজার ভোটার ফরম পূরণে সরাসরি যুক্ত ছিলাম। আমি ও আমার পরিবারও তখন এখানকার ভোটার হই। আমার ভোটকেন্দ্র ছিল কাদেরিয়া মসজিদ ও মাদরাসা। বর্তমানে সেটি ২৯ নম্বর ওয়ার্ড হিসেবে পরিচিত।
২০০৯ সাল থেকে আমি আদাবর থানাধীন ঢাকা উদ্যান এলাকায় বসবাস করছি, যা বর্তমানে ৩০ নম্বর ওয়ার্ড। দীর্ঘদিনের বসবাসের সুবাদে মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর এলাকায় আমার সামাজিক ও সাংগঠনিক যোগাযোগ রয়েছে। একটি সংগঠনের মাধ্যমে প্রায় বারোশ সদস্যের সঙ্গে এবং ব্যক্তিগতভাবে প্রায় তিন হাজার ভোটারের সঙ্গে আমার সরাসরি যোগাযোগ আছে।
উল্লেখ্য, আমি কখনো কোনো প্রার্থীর কাছ থেকে সুবিধার বিনিময়ে ভোট দিই না। যাকে যোগ্য মনে করি, তাকেই ভোট দিই। প্রার্থী পছন্দ না হলে ভোটকেন্দ্রেও যাই না। এই লেখাটি প্রকাশের আগ পর্যন্ত প্রার্থী আল্লামা মামুনুল হক-এর সঙ্গে আমার সরাসরি কোনো যোগাযোগ হয়নি। তাঁর পক্ষে লেখালেখি ও প্রচারে উদ্বুদ্ধ করেছেন মিশন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ জনাব মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, যাঁর সঙ্গে আমার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক রয়েছে।
২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনের “যেখানে যে আছে, সেখানেই ভোটার” নীতির কারণে দীর্ঘ ১৮ বছরের ব্যবধানে ঢাকা–১৩ আসনের প্রায় দেড় লক্ষ ভোটার বর্তমানে এই এলাকায় বসবাস করেন না। ধারণা করা হচ্ছে, সময় ও বাস্তবতার কারণে প্রায় এক লক্ষ ভোটার এবার ভোট দিতে আসবেন না। এর পেছনে অন্যতম কারণ—বিগত সময়ের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ভোটের পর সাধারণ ভোটারদের প্রতি দায়িত্বশীল ছিলেন না।
বর্তমানে ঢাকা–১৩ আসনে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষের বসবাস হলেও সক্রিয় ভোটার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বাস্তবতা বিবেচনায় ভোটার উপস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবশেষে বলতে চাই—একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মানবিক ঢাকা গড়তে আল্লামা মামুনুল হককে ‘রিকশা’ প্রতীকে ভোট দিন।
অথই নূরুল আমিন
কবি, কলামিস্ট ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান সমন্বয়ক, জাতীয় মানবসম্পদ উইং