আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে তালিকা ঘোষণার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে মনোনয়নবঞ্চিত নেতাকর্মীদের সমর্থকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ দেখা দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে কর্মী-সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন,
“যারা মনোনয়ন পাননি, বিশ্বাস রাখুন — ইনশাআল্লাহ দল আপনাদের যথাযথ দায়িত্ব ও সম্মান দেবে।”
ফখরুল জানান, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি তাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। এ জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লিখেছেন,
“মহান আল্লাহর রহমতে বিএনপি আমাকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মনোনীত করেছে। আমি বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ দলের সকল নেতা-নেত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানাই। দলের প্রতিটি কর্মীর প্রতিও আমার আন্তরিক ধন্যবাদ — আজীবন আমার সঙ্গে থাকার জন্য।”
রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলার স্মৃতিচারণ
রাজনীতিতে নিজের দীর্ঘ সময়ের সংগ্রাম ও পারিবারিক ত্যাগের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব লেখেন,
“আমরা যারা সারাজীবন রাজনীতি করেছি, জেলে গেছি, আমাদের সবারই একটা গল্প আছে। আমি যখন ১৯৮৭ সালে সিদ্ধান্ত নিই আবার রাজনীতিতে ফিরব, তখন আমার মেয়েরা খুব ছোট ছিল, আমার স্ত্রীর বয়সও কম ছিল। সে প্রথমে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল, বুঝতে পারছিল কী ভয়াবহ অনিশ্চিত জীবনে পা দিতে যাচ্ছে!”
তিনি আরও লেখেন,
“আমার মেয়েদের হাত ধরে সে নিয়ে গেছে স্কুলে, ডাক্তারের কাছে। মনে পড়ে, বড় মেয়ের অপারেশনের রাতে আমি গাড়িতে করে ঢাকার পথে ছিলাম, যাতে মেয়ের পাশে থাকতে পারি। সেই সময় আমি মসজিদে ছিলাম, যখন তার অপারেশন হচ্ছিল।”
“এ নির্বাচন আমার শেষ নির্বাচন”
নিজের রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানার ইঙ্গিত দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন,
“এ নির্বাচন আমার শেষ নির্বাচন! যারা মনোনয়ন পাননি, বিশ্বাস রাখুন ইন শা আল্লাহ দল আপনাদের যথাযথ দায়িত্ব ও সম্মান দেবে। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, আমাদের দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর জন্য দোয়া করবেন। আমরা সবাই মিলে আপনাদের পাশে থাকব ইন শা আল্লাহ।”
তার এই ঘোষণার পর বিএনপির ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে “শেষ নির্বাচন” মন্তব্যকে ঘিরে।