জীবনের পুরো কর্মক্ষম সময় রাজধানী ঢাকায় কাটিয়ে, এই শহরের ধুলোবালিতে ঘাম, শ্রম আর সংগ্রামের গল্প মিশিয়ে দেওয়ার পরও মৃত্যুর পর অনেকেরই ভাগ্য জোটে না সামান্য সাড়ে ৩ হাত মাটি। যে শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে মানুষের জীবন ও স্বপ্ন, জীবনাবসানের পর সেই চেনা শহরই যেন হঠাৎ করে ভীষণ অপরিচিত হয়ে ওঠে।
বর্তমানে রাজধানীতে মৃত্যুর পর একজন মানুষের শেষ শয্যার জন্য সামান্য একটু জায়গার ব্যবস্থা করা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ঢাকার বড় বড় হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ চিকিৎসার জন্য আসেন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার বুকভরা আশা নিয়ে।
কিন্তু নিয়তির অম্লান নিয়মে কাউকে কাউকে লাশ হয়ে ফিরতে হয়। আর তখনই স্বজনদের মুখোমুখি হতে হয় এক নতুন এবং চরম বাস্তবতার।
শোকের মাতমের মধ্যেই শুরু হয় দাফনের জন্য কবরস্থান অফিসে যোগাযোগ, নিবন্ধন ও ফি পরিশোধের মতো নানা জটিল প্রক্রিয়া। গত কয়েক দশকে ঢাকার আয়তন ও জনসংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি কবরস্থানের সংখ্যা বা পরিধি।
শোকের মাতমের মধ্যেই শুরু হয় দাফনের জন্য কবরস্থান অফিসে যোগাযোগ, নিবন্ধন ও ফি পরিশোধের মতো নানা জটিল প্রক্রিয়া। গত কয়েক দশকে ঢাকার আয়তন ও জনসংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি কবরস্থানের সংখ্যা বা পরিধি।
ফলে বছরের পর বছর রাজধানীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করার পরও মৃত্যুর পর শেষ আশ্রয়ের জন্য প্রিয়জনের মরদেহ নিয়ে ছুটতে হয় দূরগ্রামের ঠিকানায়। নগরবাসীর একটি বড় অংশের মতে, গ্রামে পারিবারিক জমি ও পূর্বপুরুষদের কবর থাকায় সেখানে দাফনের সুযোগ যেমন সহজ, তেমনি আবেগেরও।
কিন্তু ঢাকায় নিজস্ব জমি না থাকা সিংহভাগ মানুষের জন্য মৃত্যুর পর স্থায়ী কবরের নিশ্চয়তা পাওয়া আজ অসম্ভব এক বিলাসিতা। এর ওপর আবার ঢাকা সিটিতে কবর সংরক্ষণের আকাশচুম্বী খরচ সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় বাধা। ফলে জীবিতাবস্থায় ঢাকাবাসী হলেও, মৃত্যুর পর চিরতরে পরবাসী হয়েই গ্রামীণ জনপদে ফিরতে হচ্ছে সিংহভাগ নগরবাসীকে।