নেদারল্যান্ডসে মসজিদে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভ।
নেদারল্যান্ডসের রটারডাম শহরের ঐতিহাসিক মেভলানা মসজিদে গভীর রাতে একদল উগ্রপন্থী দুর্বৃত্ত হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। শুক্রবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন নেদারল্যান্ডস (আইএসএন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে ছয়জন মুখোশধারী ব্যক্তি আকস্মিকভাবে মসজিদটিতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা মসজিদের একটি সুদৃশ্য মোজাইক দেয়াল ভেঙে ফেলে। পাশাপাশি তারা মসজিদের মূল ভবন লক্ষ্য করে মদের বোতল নিক্ষেপ করে এবং মসজিদের সামনের অংশে প্রস্রাব করে উপাসনালয়টিকে অপবিত্র করার চেষ্টা করে।
ঘটনার পর আইএসএন ডাচ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির দাবি, হামলার সময় মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা একাধিকবার জরুরি নম্বরে ফোন করলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব করে। এরই মধ্যে হামলাকারীরা নির্বিঘ্নে এলাকা ত্যাগ করে।
সংস্থাটি আরও জানায়, পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি এমন কোনো গুরুতর হুমকি ছিল না, যার জন্য তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। পুলিশের এই অবস্থানে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
আইএসএন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইসলামভীতি এবং মুসলিম ও মসজিদকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে মুসল্লিদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ বাড়ছে।
সংস্থাটি বলেছে, ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের স্বাধীনভাবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু এ ঘটনায় পুলিশের বিলম্ব ও পরবর্তী মূল্যায়ন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ইতোমধ্যে আইএসএন রটারডাম পুলিশ প্রশাসনের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছে। একই সঙ্গে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।