দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিশ্বস্ততার সঙ্গে চাকরি করার পর অফিস থেকে সামান্য চা-পাতা ও বিস্কুট বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অপরাধে এক পিয়নকে বরখাস্ত করেছিল প্রশাসন। তবে এই চরম সিদ্ধান্তকে অন্যায় ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে ওই পিয়নের বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে তাকে সসম্মানে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।
সম্প্রতি ভারতের ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টে এই অনন্য ও মানবিক রায় দেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ১৭ বছরের দীর্ঘ ও নিরবচ্ছিন্ন সেবার পর এমন একটি ছোটখাটো ভুলের জন্য কাউকে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এম এস সোনাক এবং বিচারপতি রাজেশ শঙ্করের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ বোকারো জেলা গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থায় (ডিআরডিএ) চুক্তিভিত্তিক কর্মরত পিয়ন রঞ্জিত কুমার হিমাংশুকে দ্রুত চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়ার এই ঐতিহাসিক আদেশ দেন।
একই সঙ্গে প্রশাসনের একতরফা ও কঠোর সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শাস্তি সব সময় অপরাধের গুরুত্ব বা অনুপাত অনুযায়ী হওয়া উচিত এবং কর্মীর সামান্য ভুলের কারণে সরকারের যদি কোনো বড় আর্থিক বা বস্তুগত ক্ষতি না হয়, তবে এমন চরম ব্যবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনাটির সূত্রপাত হয়েছিল ২০২২ সালের মার্চ মাসে, যখন বোকারোর তৎকালীন ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট কমিশনার অফিস থেকে নিখোঁজ কিছু জিনিসপত্র নিয়ে রঞ্জিত হিমাংশুকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন, যদিও নোটিশে ঠিক কোন জিনিসগুলো নিখোঁজ হয়েছিল তার কোনো স্পষ্ট উল্লেখ ছিল না।
ঘটনাটির সূত্রপাত হয়েছিল ২০২২ সালের মার্চ মাসে, যখন বোকারোর তৎকালীন ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট কমিশনার অফিস থেকে নিখোঁজ কিছু জিনিসপত্র নিয়ে রঞ্জিত হিমাংশুকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন, যদিও নোটিশে ঠিক কোন জিনিসগুলো নিখোঁজ হয়েছিল তার কোনো স্পষ্ট উল্লেখ ছিল না।
মামলার শুনানির সময় রঞ্জিতের আইনজীবী আদালতকে জানান যে, তাঁর মক্কেল অফিস থেকে বেঁচে যাওয়া সামান্য চা-পাতা ও বিস্কুট বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা সরল বিশ্বাসে স্বীকার করেছিলেন এবং নোটিশ পাওয়ার পর তিনি সেই জিনিসগুলো অফিসে ফেরতও দিয়ে দেন।
তা সত্ত্বেও অত্যন্ত অমানসিকভাবে ২০২২ সালের মে মাসে তাঁর চুক্তিভিত্তিক চাকরিটি বাতিল করা হয়। হাইকোর্ট পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে বলেন, প্রশাসন এই চরম শাস্তি দেওয়ার আগে ওই চুনোপুঁটি কর্মীর দীর্ঘদিনের পরিচ্ছন্ন কাজের রেকর্ড এবং অভিযোগের অতি সামান্য ধরনটি বিবেচনা করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
এই অন্যায়ের প্রতিকার হিসেবে আদালত আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে রঞ্জিত হিমাংশুকে তার পদে পুনর্বহাল করার জন্য বোকারো কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং একই সঙ্গে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে তাঁর গত চার বছরের বকেয়া বেতনের ৫০ শতাংশ পরিশোধ করারও আদেশ দেওয়া হয়েছে।