Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / রংপুর বিভাগ / সারাদেশ / পঞ্চগড় / ‘প্রক্সি শিক্ষক’ দিয়ে চলছে পাঠদান, বেহাল বিদ্যালয়ের পরিবেশে ক্ষুব্ধ অভিভাবক-স্থানীয়রা - Chief TV

‘প্রক্সি শিক্ষক’ দিয়ে চলছে পাঠদান, বেহাল বিদ্যালয়ের পরিবেশে ক্ষুব্ধ অভিভাবক-স্থানীয়রা - Chief TV

2026-07-02  মোঃ রাকিব হাসান,পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ  59 views
‘প্রক্সি শিক্ষক’ দিয়ে চলছে পাঠদান, বেহাল বিদ্যালয়ের পরিবেশে ক্ষুব্ধ অভিভাবক-স্থানীয়রা - Chief TV

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ১০১ নম্বর বনগ্রাম খালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত এক সহকারী শিক্ষকের পরিবর্তে কয়েক মাস ধরে এক নারীকে দিয়ে নিয়মিত পাঠদান করানোর অভিযোগ উঠেছে।

একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের বেহাল অবস্থা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১২৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে ৬৫ জন ছাত্র এবং ৬১ জন ছাত্রী। বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সহকারী শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিকের পরিবর্তে প্রায় দুই থেকে তিন মাস ধরে ইতি আক্তার নামে এক নারী বিভিন্ন শ্রেণিতে নিয়মিত পাঠদান করছেন।

এ বিষয়ে ইতি আক্তার বলেন, “আমি গত দুই থেকে তিন মাস ধরে এই বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ক্লাস নিচ্ছি।”

অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “আমি অসুস্থ থাকায় ইতি আক্তারকে মাসিক সাত হাজার টাকা বেতনে প্রক্সি শিক্ষক হিসেবে রেখেছি।”

তবে এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোসাদ্দেকুর রহমান ভিন্ন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “প্রক্সি শিক্ষক রাখার বিষয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক কিছুই জানেন না। বিদ্যালয়ের পাঠদান যাতে ব্যাহত না হয়, সে কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের অর্থায়নে ইতি আক্তারকে রেখেছে।”

একই বিষয়ে দুই দায়িত্বশীল ব্যক্তির পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে—প্রক্সি শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত কে নিয়েছেন এবং কোন বিধিমালার আওতায় তাকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সহকারী শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক মাঝে মধ্যে বিদ্যালয়ে এলেও অধিকাংশ সময় কোনো ক্লাস না নিয়েই চলে যান। তার নির্ধারিত ক্লাসগুলো নিয়মিত ইতি আক্তার পরিচালনা করেন।

একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, “আবু বক্কর স্যার সবসময় ক্লাস নেন না। ইতি ম্যাডামই বেশিরভাগ ক্লাস করান।”

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির পানি জমে বড় বড় কাদার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে টিফিন ও অবসর সময়ে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ের পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, খেলাধুলার সুযোগ না থাকায় তাদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ে অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে পাঠদান করানো সরকারি বিধিমালার পরিপন্থী হতে পারে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানান।

এ বিষয়ে বোদা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, “শিক্ষক অনুপস্থিত থেকে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিদ্যালয়ে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের অনুপস্থিতি, প্রশাসনিক বক্তব্যের অসঙ্গতি এবং বিদ্যালয়ের অব্যবস্থাপনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিভাবক ও স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের মাঠ দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।


Share: