উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার যুবক মৃদল খান। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে যুদ্ধক্ষেত্রে এক মাইন বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন ২২ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি তরুণ।
গত রবিবার দূর পরবাসে রণক্ষেত্রে তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে নিহতের পরিবার। নিহত মৃদল খান কালিহাতী উপজেলার কোকড়হরা ইউনিয়নের পাছ-চারান গ্রামের সাঈদ খানের ছেলে। মাত্র কয়েক মাস আগে দেশ ছাড়া এই যুবকের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত মৃদলের বাবা সাঈদ খান জানান, তার ছেলে ভালো একটি কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনের আশায় জমি জমা ও ধারদেনা করে একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ইউরোপে যাওয়ার সব পরিকল্পনা করেছিলেন।
নিহত মৃদলের বাবা সাঈদ খান জানান, তার ছেলে ভালো একটি কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনের আশায় জমি জমা ও ধারদেনা করে একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ইউরোপে যাওয়ার সব পরিকল্পনা করেছিলেন।
তবে দীর্ঘদিন চেষ্টা করার পরও ইউরোপের কোনো দেশের ভিসা না পাওয়ায় ওই এজেন্সির পরামর্শে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি তিনি রাশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে সাধারণ কোনো বেসামরিক কাজে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর স্থানীয় একটি বাংলাদেশি দালালচক্রের খপ্পরে পড়েন মৃদল।
অধিক উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে ওই দালালচক্র তাকে কৌশলে রুশ সেনাবাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক সৈনিক হিসেবে যোগ দিতে বাধ্য করে।
সেখান থেকেই তাকে ইউক্রেন সীমান্তের সম্মুখ সমরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং গত রবিবার যুদ্ধক্ষেত্রে মাইন বিস্ফোরণের শিকার হয়ে তিনি মারা যান। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা।
সেখান থেকেই তাকে ইউক্রেন সীমান্তের সম্মুখ সমরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং গত রবিবার যুদ্ধক্ষেত্রে মাইন বিস্ফোরণের শিকার হয়ে তিনি মারা যান। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা।
দূর দেশের যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত মৃদলের মরদেহটি যেন দ্রুত ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়, সেজন্য বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের জরুরি ও মানবিক সহযোগিতা কামনা করেছেন নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যরা।