সিলেটের আধ্যাত্মিক ও ঐতিহ্যের প্রতীক হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অস্পষ্টতা দূর করতে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। মাজার দুটির যাবতীয় আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব সংরক্ষণ এবং নিয়মিতভাবে প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম এই ঐতিহাসিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় মাজার দুটির পরিচালনা কমিটি, মোতাওয়াল্লি, মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটির প্রতিনিধি ছাড়াও ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেটের নামের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই দুই মাজারে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তসহ বিদেশ থেকেও হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থী আসেন। তারা নগদ টাকা ছাড়াও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু ও মূল্যবান সামগ্রী দান করেন, যার বাজারমূল্য প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা।
সিলেটের নামের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই দুই মাজারে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তসহ বিদেশ থেকেও হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থী আসেন। তারা নগদ টাকা ছাড়াও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু ও মূল্যবান সামগ্রী দান করেন, যার বাজারমূল্য প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বিপুল পরিমাণ দানের অর্থ কীভাবে পরিচালিত বা কোথায় ব্যয় হয়, সে বিষয়ে কখনোই জনসম্মুখে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনা কমিশনের এক সভায় মাজারগুলোর আর্থিক অস্পষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে।
এরপরই জেলা প্রশাসন এই উদ্যোগ গ্রহণ করে। জেলা প্রশাসক স্পষ্ট জানিয়েছেন, মাজারকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।
একই সাথে তিনি মাজারগুলোর ধর্মীয় ঐতিহ্য ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, নারী দর্শনার্থীদের জন্য পৃথক সুবিধা, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা বাড়িয়ে একটি সমন্বিত পর্যটনবান্ধব মহাপরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানান।