সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমাকে সুপরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেন এবং তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে এই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।
শুক্রবার দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মনজরুল আলম আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চার্জশিটে অভিযুক্ত তিনজনই নিহত শিশু ফাহিমার প্রতিবেশী এবং সম্পর্কে চাচা বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তরা হলেন—প্রধান আসামি জাকির হোসেন, তার ভাই জয়নাল আহমদ এবং আবুল কালাম। এর মধ্যে জাকিরের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও নৃসংশ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এবং তার বাকি দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে লাশ গুমের চেষ্টার অপরাধে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ, আদালত ও মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত ৬ মে সকালে প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেন ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দেওয়ার কথা বলে পাঠায়। সরল মনে শিশুটি সিগারেট নিয়ে ফিরে এলে জাকির তাকে ফুঁসলিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। ওই সময় ঘরে জাকিরের স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না।
পুলিশ, আদালত ও মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত ৬ মে সকালে প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেন ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দেওয়ার কথা বলে পাঠায়। সরল মনে শিশুটি সিগারেট নিয়ে ফিরে এলে জাকির তাকে ফুঁসলিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। ওই সময় ঘরে জাকিরের স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না।
পরবর্তীতে পুলিশের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদে জাকির স্বীকার করে যে, ঘরের দরজা বন্ধ করে সে চার বছরের ফাহিমাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় এবং একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে নির্মমভাবে গলা টিপে হত্যা করে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধ আড়াল করতে ফাহিমার মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরের একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়।
কিন্তু দুদিন পর মরদেহ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে গভীর রাতে জাকির ও তার দুই ভাই মিলে লাশটি পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেয়। গত ৮ মে পুলিশ বাড়ির পাশের ডোবা থেকে ফাহিমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে এবং ১১ মে রাতে প্রধান ঘাতক জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারের পর জাকির আদালতে ১৬৪ ধারায় ফাহিমা হত্যার লোমহর্ষক ও নৃশংস স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিলেটসহ দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে এবং অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন।
সম্প্রতি ফাহিমার শোকার্ত পরিবারের সাথে দেখা করে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান; তারা উভয়েই এই স্পর্শকাতর মামলার দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে পরিবারটিকে শতভাগ আশ্বস্ত করেছেন।