ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বাংলাদেশ শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়। বিভাগীয় শহরগুলোতেও বিপুলসংখ্যক দর্শক রয়েছেন, যারা সিনেমা দেখতে আগ্রহী। সে কারণে আগামী বছর থেকে এই চলচ্চিত্র উৎসবকে কীভাবে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে উৎসব কর্তৃপক্ষ ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে পরিকল্পনা করার আহ্বান জানান তিনি।
‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রেইনবো ফিল্ম সোসাইটিজের আয়োজনে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে উদ্বোধনী আয়োজনের শুরুতেই থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানি ও জলতরঙ্গ গোষ্ঠীর পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
উৎসবের স্বাগত বক্তব্যে পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল জানান, এ বছর প্রথমবারের মতো কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্টে উৎসবের চলচ্চিত্রগুলোর উন্মুক্ত প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছর এই আয়োজন আরও বিস্তৃত পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শিওপেং এবং ক্রোয়েশিয়া-যুক্তরাজ্যভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা আলেকজান্দ্রা মারকোভিচ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি পরিবেশ সুরক্ষার কথা উল্লেখ করে প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি বলেন, ‘শুধু ঢাকা মানেই বাংলাদেশ নয়। বিভাগীয় শহরগুলোতেও সিনেমাপ্রেমী মানুষের অভাব নেই। তাই আগামী বছর যেন এই উৎসব সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভাবতে হবে।’
নয় দিনব্যাপী এই উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রদর্শিত হয় চেন শিয়াং পরিচালিত চীনা চলচ্চিত্র ‘উ জিন ঝি লু’ (দ্য জার্নি টু নো এন্ড)। সন্ধ্যা ৭টায় প্রদর্শিত হচ্ছে মোহাম্মদ আসাদানিয়া পরিচালিত ইরানি সিনেমা ‘উইদাউট মি’।
এবারের উৎসবে এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন, রেট্রোস্পেকটিভ, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল, বাংলাদেশ প্যানোরমা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিলড্রেন ফিল্ম সেশন, উইমেন ফিল্মমেকার, শর্ট অ্যান্ড ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম, স্পিরিচুয়াল ফিল্ম এবং ওপেন টি বায়োস্কোপ—এই বিভাগগুলোতে বাংলাদেশসহ ৯১টি দেশের মোট ২৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।
উৎসবের প্রদর্শনী ভেন্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তন ও কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ও নাট্যশালার মূল মিলনায়তন, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তন, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের মিলনায়তন এবং কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্ট।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এবারই প্রথম কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে ওপেন এয়ার স্ক্রিনিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত লাবণী পয়েন্টে উৎসবের চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শিত হবে।
উৎসবের অংশ হিসেবে এবারও অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘ওয়েস্ট মিটস ইস্ট’ স্ক্রিনপ্লে ল্যাব। দক্ষিণ এশিয়ার পাশাপাশি পুরো এশিয়া মহাদেশের নির্মাতাদের জন্য উন্মুক্ত এই ল্যাবে জমা পড়া প্রস্তাব থেকে সেরা ১০টি প্রকল্প নির্বাচিত হয়েছে। এখানে শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য পাবে ৫ লাখ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারী পাবে ৩ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থান পাওয়া চিত্রনাট্য পাবে ২ লাখ টাকা।
এ ছাড়া ১৭ জানুয়ারি দিনব্যাপী মাস্টারক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই আয়োজনে বক্তব্য দেবেন সুইস ফিল্ম ম্যাগাজিন সিনেবুলেটিনের সম্পাদক টেরেসা ভিনা, নির্মাতা আলেকজান্দ্রা মারকোভিচ এবং বাংলাদেশের নির্মাতা ও প্রোডাকশন ডিজাইনার লিটন কর।
সবশেষে ১৮ জানুয়ারি ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নামবে। সমাপনী দিনে বিকেল ৪টায় জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সমাপনী অনুষ্ঠানে উৎসবে সেরা চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি সংগীত পরিবেশন করবেন আহমেদ হাসান সানি।