টাইম ম্যাগাজিন লিখেছে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ‘হানিমুন পিরিয়ড’ অন্যদের তুলনায় সংক্ষিপ্ত হয়ে যেতে পারে। তবে এতগুলো বছর নির্বাসনে কাটানোর পর, তিনি আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করতে বদ্ধপরিকর।
মার্কিন সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার প্রকাশিত ২০২৬ সালের এই তালিকায় রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনেতা আছেন ২৪ জন। পোপ লিও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, এবং নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহও আছেন তাদের মধ্যে।
ম্যাগাজিনে তারেক রহমানকে নিয়ে মুখবন্ধটি লিখেছেন টাইমের এডিটর-অ্যাট-লার্জ ও ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞ চার্লি ক্যাম্পবেল।
সেখানে বলা হয়, কয়েক মাস আগেও তারেক রহমান লন্ডনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবুজে ঘেরা পরিবেশে ‘নির্ভার এক নির্বাসিত জীবন’ কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ‘স্বৈরাচারী’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পতন হলে ৫৭ বছর বয়সী তারেক রহমান বিরোধী দলের আন্দোলনকারী থেকে সম্ভাব্য জাতীয় নেতায় পরিণত হন।
“১৭ বছর মাতৃভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর ফেব্রুয়ারিতে বিপুল ভোটে জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি সেই গন্তব্যে পৌঁছান।”
টাইম ম্যাগাজিন লিখেছেন, এই জয়ের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান তার মা, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করলেন, যিনি ছেলের ঢাকায় ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পর মারা যান।
“জানুয়ারিতে যখন তারেক রহমান 'টাইম'-এর সঙ্গে কথা বলেন, তখনো তার শোকের ক্ষত তরতাজা। তবে তিনি এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দেশটিকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে পুনরায় চাঙা করে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।”
মুখবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশ বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বে জর্জরিত। অন্যদিকে আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কও তলানিতে পৌঁছেছে। এসব সংকট দ্রুত সমাধানের চ্যালেঞ্জ রয়েছে তারেক রহমানের সামনে।
টাইম ম্যাগাজিন লিখেছে, শূন্য দশকের দুর্নীতির অভিযোগগুলোর কারণে (যদিও পরে আদালত সেগুলো খারিজ করে দিয়েছে) তারেক রহমানের সম্ভাব্য ‘হানিমুন পিরিয়ড’ অন্যদের তুলনায় সংক্ষিপ্ত হয়ে যেতে পারে। তবে এতগুলো বছর নির্বাসনে কাটানোর পর, তিনি আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করতে বদ্ধপরিকর।
তারেক রহমানের বক্তব্য থেকে উদ্ধৃত করে মুখবন্ধে বলা হয়, “আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে; যাতে মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার পায়।”
টাইম ম্যাগাজিনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম আসার খবর ফেইসবুকে পোস্ট করে তার উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন লিখেছেন, “আজকের বৈশ্বিক স্বীকৃতি গণতন্ত্রের বিজয়, জনতার বিজয়, বাংলাদেশের বিজয়, আলহামদুলিল্লাহ।”
তিনি লিখেছেন, “তিনি প্রমাণ করেছেন, ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই একজন নেতার প্রকৃত শক্তি, দেশ পরিচালনাকে তিনি ক্ষমতা হিসেবে নয়, দেখতে চান দায়িত্ব হিসেবে। দেশের স্বার্থে কোনো বিভাজন নয়, বরং ইস্পাত কঠিন দৃঢ় ঐক্যই একটি জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।”