দেশজুড়ে তরুণ সমাজের জন্য ভয়ংকর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো। সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে পড়ে তেঁতুলিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের যুবকরা এ অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। শুরুতে অল্প টাকায় খেলা শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই অনেকেই হারাচ্ছেন সর্বস্ব।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনলাইন জুয়ার বেশিরভাগ প্ল্যাটফর্ম পরিচালিত হচ্ছে বিদেশ থেকে—বিশেষ করে রাশিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে। এসব সাইটের সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশি মাস্টার এজেন্ট, এজেন্ট ও সাব-এজেন্টরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জুয়ার নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে।
এই অবৈধ লেনদেনে ব্যবহৃত হচ্ছে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস যেমন বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায়। পাশাপাশি একাধিক ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ আদান-প্রদান হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বৈধ আর্থিক চ্যানেল এড়িয়ে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর বাজার এলাকার এক যুবক আবু বকর সিদ্দিক বলেন,
“উপজেলায় অনেক অনলাইন জুয়ার ডিলার সক্রিয়। বিশেষ করে ভজনপুর এলাকায় মাস্টার এজেন্ট থেকে শুরু করে নিচের পর্যায়ের এজেন্টদের মাধ্যমে ব্যাপক লেনদেন হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান,
“আমি নিজ চোখে দেখেছি অনেকেই নিঃস্ব হয়ে গেছে। আমাদের এক বন্ধু মোবারক প্রায় দুই বছর ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। নিজের পরিবারকে উপেক্ষা করে সে খেলায় ডুবে আছে। তার স্ত্রী জানিয়েছেন, জুয়ার টাকা জোগাড় করতে সে নিজের স্ত্রীর গয়না পর্যন্ত বিক্রি করেছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
এ ঘটনায় স্থানীয়রা সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সর্তকতার সঙ্গে অনুরোধ জানাচ্ছেন।