বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম ডহরপাড়া গ্রামে এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের নির্মাণাধীন ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে মামলা দায়ের হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের শরণাপন্ন হলে এই নির্দেশ আসে।
এই মামলার প্রেক্ষিতে গত ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) অন্যতম তিন আসামি সেলিম হাওলাদার (৫৫), আলিম হাওলাদার (৫০) ও রমজান (২১) বরিশালের আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম ডহরপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মোক্তার আলী হাওলাদারের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি চলাকালে গত ২৬ ও ২৭ মে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসহ নির্মাণকাজে বাধা প্রদান করে।
মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম ডহরপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মোক্তার আলী হাওলাদারের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি চলাকালে গত ২৬ ও ২৭ মে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসহ নির্মাণকাজে বাধা প্রদান করে।
তারা জোরপূর্বক সেন্টারিংয়ের কাঠ ও বাঁশ খুলে নিয়ে যায় এবং হাতুড়ি দিয়ে ভবনের একাধিক পিলার ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। এই বর্বরোচিত হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জোসনা বেগম জানান, গত বছর কাজ শুরু হলেও তাদের নাতি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকায় নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। সম্প্রতি পুনরায় কাজ শুরু করলে বজলুল হাওলাদার ও তার স্ত্রী কাজল রেখাসহ কয়েকজন ব্যক্তি এই হামলা চালায়।
জোসনা বেগম আরও অভিযোগ করেন, আসামিদের একজনের প্রভাবশালী আত্মীয় থাকায় তারা উজিরপুর মডেল থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ প্রাথমিকভাবে মামলা গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে থানাকে এফআইআর (FIR) গ্রহণের নির্দেশ দেন।
জোসনা বেগম আরও অভিযোগ করেন, আসামিদের একজনের প্রভাবশালী আত্মীয় থাকায় তারা উজিরপুর মডেল থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ প্রাথমিকভাবে মামলা গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে থানাকে এফআইআর (FIR) গ্রহণের নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশে অবশেষে মামলা রুজু হওয়ায় এবং আসামিরা কারাগারে প্রেরিত হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার এখন ন্যায়বিচারের আশা করছে। এদিকে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে নির্মাণাধীন ভবনে এমন হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।