জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় নিজের নির্ধারিত সিরিয়াল পরিবর্তন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-২ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য সেলিম ভূঁইয়া। এ কারণে অভিমান করে প্রথমে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানালেও পরবর্তীতে তিনি আলোচনায় অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা চলাকালীন এই নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সে সময় অধিবেশন পরিচালনা করছিলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডেপুটি স্পিকার সেলিম ভূঁইয়ার নাম ঘোষণা করলে তিনি বক্তব্য শুরু না করে বলেন, "মাননীয় স্পিকার, আমি আজ বক্তব্য দেব না।" এর কারণ ব্যাখ্যা করে ৪৬ বছর ধরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত এই সংসদ সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমি হলাম শিক্ষক।
অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডেপুটি স্পিকার সেলিম ভূঁইয়ার নাম ঘোষণা করলে তিনি বক্তব্য শুরু না করে বলেন, "মাননীয় স্পিকার, আমি আজ বক্তব্য দেব না।" এর কারণ ব্যাখ্যা করে ৪৬ বছর ধরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত এই সংসদ সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমি হলাম শিক্ষক।
৪৬ বছর ধরে শিক্ষকতা পেশায় আছি। আমার কাজই বক্তব্য দেওয়া। আমাকে দেন ছয় মিনিট, অন্যদের দেন ১০ মিনিট, ১২ মিনিট। এই প্রতিবাদে আমি বক্তব্য দিলাম না।" এরপর তিনি তার বক্তব্যের সিরিয়াল পরিবর্তন করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, "আমার সিরিয়াল ছিল আজকে আট নম্বরে।
আট নম্বর সিরিয়াল যদি ঠিকমতো রাখা হতো, আমার বক্তব্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে হতো। এখান থেকে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এজন্য আমি বসে পড়লাম, আমি বক্তব্য দেব না।"
জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, সময় ও সিরিয়ালের বিষয়টি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার নির্ধারণ করেন না; চিফ হুইপ যেভাবে সময় ও সিরিয়াল ঠিক করে দেন, সেই অনুযায়ী অধিবেশন পরিচালনা করা হয়।
জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, সময় ও সিরিয়ালের বিষয়টি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার নির্ধারণ করেন না; চিফ হুইপ যেভাবে সময় ও সিরিয়াল ঠিক করে দেন, সেই অনুযায়ী অধিবেশন পরিচালনা করা হয়।
এ সময় সেলিম ভূঁইয়া মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকলে ডেপুটি স্পিকার তাকে পুনরায় মাইক দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং তার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে মাইক পেয়ে সেলিম ভূঁইয়া নিজের অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, "উনারা জনগণের প্রতিনিধি, আমিও জনগণের প্রতিনিধি।
আমারও রাইট আছে কথা বলার। আমাকে আমার ন্যায্য অধিকার দিতে হবে কথা বলার জন্য।"
অধিকারের দাবি আদায়ের পর অবশ্য তিনি নিজের ক্ষোভ ভুলে বাজেটের ওপর বক্তব্য শুরু করেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানান।
অধিকারের দাবি আদায়ের পর অবশ্য তিনি নিজের ক্ষোভ ভুলে বাজেটের ওপর বক্তব্য শুরু করেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানান।
একই সাথে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেটকে 'ঐতিহাসিক' হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, "এই ঐতিহাসিক বাজেটের ওপর বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু মন খারাপ, ভালোভাবে দিতে পারছি না।" এরপর তিনি প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন গঠনমূলক দিক ও এর ওপর নিজের গুরুত্বপূর্ণ মতামত সংসদের সামনে তুলে ধরেন।