ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গতকাল সারা দেশে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ চলে।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়ী হয়েছে । প্রাথমিক ও বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ভোটারদের একটি বিশাল অংশ 'জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫' বাস্তবায়নের পক্ষে তাদের রায় দিয়েছেন।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, সংগৃহীত ভোটের প্রায় ৭৩% 'হ্যাঁ' এবং বাকিগুলো 'না' ভোট ছিল । অপর একটি হিসেবে সমর্থনের হার প্রায় ৬৫.৩% দেখানো হয়েছে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হওয়ায় দেশের সংবিধানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়নের পথ খুলে গেলো। প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো—
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি
বর্তমানে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন। নতুন সনদ কার্যকর হলে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই তিনি মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ দিতে পারবেন। (এ বিষয়ে বিএনপি ভিন্নমত জানিয়েছে।)
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি
বর্তমানে সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সদস্যদের গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার কথা বলা হয়েছে।
উচ্চকক্ষ গঠন
‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে আসন বণ্টন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা
একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর বা দুই মেয়াদ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান একই ব্যক্তি হতে পারবেন না—এমন বিধান যুক্ত হবে।
সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা (৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন)
অর্থবিল ও অনাস্থা প্রস্তাব ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।
বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার
সংসদের ডেপুটি স্পিকার বাধ্যতামূলকভাবে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবেন।
বিচার বিভাগীয় সংস্কার
সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ আপিল বিভাগ থেকে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিশনের হাতে ন্যস্ত করার কথাও বলা হয়েছে।
মৌলিক অধিকার ও অন্যান্য প্রস্তাব
জরুরি অবস্থাতেও মৌলিক অধিকার খর্ব না করা, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা জোরদার করা এবং নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি—এসব বিষয় সনদে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন গঠনের পদ্ধতি ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকারেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারের সম্মতি ছাড়া রাষ্ট্রপতি ক্ষমা প্রদর্শন করতে পারবেন না।