ইসলামে নামাজের মতো মৌলিক ইবাদতের পাশাপাশি সর্বদা অজু অবস্থায় থাকার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। আল্লাহ তাআলা অজু করাকে ফরজ করেছেন। কমপক্ষে চারটি অঙ্গ ধোয়ার মাধ্যমে এই ফরজ আদায় করতে হয়। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
‘পবিত্রতা (অজু) ছাড়া নামাজ কবুল হয় না। আর হারাম উপায়ে অর্জিত সম্পদ থেকে দেওয়া সদকাও কবুল হয় না।’
(তিরমিজি)
এ ছাড়া অজুর গুরুত্ব হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদিস থেকেও বোঝা যায়। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেছিলেন,
‘হে আমার বেটা! সম্ভব হলে সর্বদা অজু অবস্থায় থাকবে। কেননা মৃত্যুর ফেরেশতা অজু অবস্থায় যার জান কবজ করেন, সে শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করে।’
(শু‘আবুল ঈমান, বায়হাকি, হাদিস: ২৭৮৩)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন, অজুর মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
‘যখন কোনো মুসলিম বা মুমিন বান্দা অজুর সময় মুখমণ্ডল ধোয়, তখন তার চোখ দিয়ে করা গুনাহগুলো পানির সঙ্গে বা পানির শেষ বিন্দুর সঙ্গে বের হয়ে যায়। আর যখন সে তার দুই হাত ধোয়, তখন হাত দিয়ে করা গুনাহগুলো পানির সঙ্গে বা পানির শেষ ফোঁটার সঙ্গে ঝরে যায়। এরপর সে যখন তার দুই পা ধোয়, তখন পা দিয়ে করা গুনাহগুলো পানির সঙ্গে বা পানির শেষ বিন্দুর সঙ্গে বের হয়ে যায়। এভাবে সে তার যাবতীয় (সগিরা) গুনাহ থেকে মুক্ত ও পবিত্র হয়ে যায়।’
(মুসলিম, হাদিস: ২৪৪)
অজু করার নিয়ম হলো— পূর্ণ মুখমণ্ডল ধোয়া, দুই হাত কনুইসহ ধোয়া, মাথার চার ভাগের এক ভাগ মাসেহ করা এবং দুই পা টাখনুসহ ধোয়া।
সূরা মায়েদার ৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
‘হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াতে চাও, তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও, তোমাদের মাথায় মাসেহ করো এবং পা টাখনু পর্যন্ত ধুয়ে নাও। আর যদি তোমরা অপবিত্র হও, তবে বিশেষভাবে পবিত্র হয়ে নাও।’
অজু ভঙ্গের কারণ সাতটি। এসব কারণ সংঘটিত হলে অজু ভেঙে যায় এবং অজু-সংশ্লিষ্ট ইবাদতের জন্য নতুন করে অজু করতে হয়। অজু ভঙ্গের সাতটি কারণের মধ্যে হাঁটুর ওপর কাপড় উঠে যাওয়ার বিষয়টি নেই। তাই কোনো কারণে কারও হাঁটুর ওপর কাপড় উঠে গেলে অজু ভাঙবে না। ঠিক তেমনি নারীদের ক্ষেত্রেও অজু করার পর মাথার কাপড় পড়ে গেলে অজু ভাঙবে না। তবে নন-মাহরাম কেউ দেখলে তা গুনাহের কারণ হবে।
তবে মনে রাখতে হবে, সতর ঢেকে রাখা ফরজ। একজন পুরুষের জন্য নাভির ওপর থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত এবং একজন নারীর জন্য সম্পূর্ণ শরীর ঢেকে রাখা ফরজ। তাই এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।