মেহেরপুর জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের উদ্যোগে উদ্ধারকৃত হারানো মোবাইল ফোন এবং অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত নগদ অর্থ প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার মেহেরপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধারকৃত ৯২টি মোবাইল ফোন ও ৫৫ হাজার টাকা ভুক্তভোগীদের হাতে তুলে দেন জেলা পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।
এ সময় পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় সাইবার সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে আমরা কেউই অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও সাইবার স্পেসের বাইরে নই। তাই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সবাইকে আরও সচেতন ও সতর্ক হতে হবে। তিনি পুরোনো মুঠোফোন কেনার সময় অবশ্যই মোবাইলের বক্স ও ক্যাশ মেমো সংগ্রহের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি অনলাইন প্রতারণা এড়াতে বিকাশ, নগদসহ অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের ওটিপি কারও সঙ্গে শেয়ার না করার আহ্বান জানান। অনলাইনে কোনো পণ্য কেনার আগে অভিজ্ঞজনের সঙ্গে পরামর্শ করার কথাও বলেন তিনি।
পুলিশ সুপার আরও জানান, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জেলা পুলিশের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একটি সুষ্ঠু, নিরাপদ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে যেকোনো ধরনের অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে স্থানীয় পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বর ২০২৫ মাসে মেহেরপুর জেলার তিন থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল মোট ৯২টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে ভুলবশত অন্য নম্বরে চলে যাওয়া এবং প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত নগদ ও বিকাশের মোট ৫৫ হাজার টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া ১৩টি ফেসবুক আইডি রিকভারি করা হয় এবং বিভিন্ন থানায় নিখোঁজ ব্যক্তি ও ভিকটিম উদ্ধারে সহায়তা করে ৪ জন ভিকটিম উদ্ধার করা হয়।
সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। হারানো মোবাইল উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের মুখে হাসি ফোটাতে সেলটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মোহাম্মদ আতিকুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. জামিনুর রহমান খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মেহেদি হাসান দিপু, ওসি (ডিবি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরীসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা।