ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজার জেলার ৫৯৮টি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৮৬টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বরাদ্দে সিসিটিভি বসানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বাকি ২১২টি কেন্দ্রে স্থানীয় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা নিজস্ব বরাদ্দ থেকে ক্যামেরা স্থাপন করছেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ছয়টি করে ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। এর মধ্যে একটি থাকবে প্রিসাইডিং অফিসারের কক্ষে, দুটি সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারের কক্ষে এবং বাকি তিনটি ভোটকেন্দ্রের সামনে ও পেছনের অংশে স্থাপন করা হচ্ছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আ. আজিজ জানান, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতির প্রায় ৯০ শতাংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার ৮০০ টাকা করে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩৮৬টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি বসাতে মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার ৮০০ টাকা। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে স্থাপন কাজ শেষ হয়েছে।
উপজেলা ভিত্তিক বরাদ্দ অনুযায়ী কক্সবাজার সদরে ৩৫টি কেন্দ্রে ১১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, রামুতে ৪০ কেন্দ্রে ১৩ লাখ ১২ হাজার টাকা, উখিয়ায় ৪৮ কেন্দ্রে ১৫ লাখ ৭০ হাজার ৪০০ টাকা, টেকনাফে ২৫ কেন্দ্রে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা, মহেশখালীতে ৮৬ কেন্দ্রে ২৮ লাখ ২০ হাজার ৮০০ টাকা, পেকুয়ায় ২০ কেন্দ্রে ৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, কুতুবদিয়ায় ৩৫ কেন্দ্রে ১১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, চকরিয়ায় ৭৩ কেন্দ্রে ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ টাকা এবং ঈদগাহ উপজেলায় ২৪ কেন্দ্রে ৭ লাখ ৮৭ হাজার ২০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মো. আ. আজিজ জানান, জেলার চারটি সংসদীয় আসনের ৫৯৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৮৬টিতে কেন্দ্রীয়ভাবে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ২১২টি কেন্দ্রের ব্যয় নির্বাহ করছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। মোট ৩ হাজার ৬৮৯টি ভোটকক্ষে সিসিটিভি স্থাপন নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের উদাহরণ তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনে মোট ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। প্রথমবারের মতো সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে থাকবে। পাশাপাশি র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও কোস্টগার্ডও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করবে।