বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে লালমনিরহাটে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ।
পহেলা বৈশাখের সকালে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে জেলা কালেক্টরেট মাঠের মিশন চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় গ্রামীণ সংস্কৃতি ও বাঙালির ঐতিহ্য তুলে ধরতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন, মুখোশ ও ঐতিহ্যবাহী সাজে সজ্জিত হয়ে অংশ নেন। জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ জনগণ এতে অংশগ্রহণ করেন।

শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রেলওয়ে মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে বৈশাখী উৎসব উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্য, বাঙালির সংস্কৃতি ও ইতিহাসের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশীয় সংস্কৃতি চর্চার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। লোকজ সংগীত ও বৈশাখী নৃত্যের পরিবেশনায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো মুক্তমঞ্চ এলাকা।

এছাড়াও জেলা পরিষদের উদ্যোগে আগত দর্শনার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ভাতের আপ্যায়ন, যা সবার মাঝে বাড়তি আনন্দ যোগ করে। একই সঙ্গে মুক্তমঞ্চ এলাকায় বসানো হয় বিভিন্ন গ্রামীণ পণ্য ও হস্তশিল্পের স্টল। এসব স্টলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নানা ধরনের গ্রামীণ পণ্য, হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী খাবার প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
সার্বিকভাবে দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে লালমনিরহাট জেলায় আনন্দ, উৎসব ও বাঙালিয়ানা চর্চার এক মিলনমেলায় পরিণত হয় বাংলা নববর্ষ উদযাপন। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে এমন আয়োজন প্রতিবছরই অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।