জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়কের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। দুই সপ্তাহ আগে দলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব বরাবর তিনি এই পদত্যাগপত্র জমা দিলেও, এখনো তা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে। এনসিপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, পদসংক্রান্ত জটিলতা এবং অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কারণেই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জানা গেছে, আসন্ন ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন।
সূত্র আরও জানায়, দলে যোগ দিয়ে তিনি **নির্বাচন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালকের দায়িত্ব** নিতে আগ্রহী — যা বর্তমানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অধীনে রয়েছে। আসিফ মাহমুদের এই প্রস্তাবে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের মৌন সম্মতি রয়েছে বলেই জানা গেছে। এ অবস্থায় মনঃক্ষুণ্ন হয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে পদত্যাগপত্রে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি শুধু পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন, দলের সদস্য হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।
পদত্যাগের পর গত দুই সপ্তাহ ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দলীয় কার্যক্রম থেকে নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ১৭ অক্টোবর দলের নতুন অঙ্গসংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’ গঠনে তাঁর মূল ভূমিকা থাকলেও, সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
পদত্যাগ বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির এক যুগ্ম সদস্যসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“আমরা তাঁর পদত্যাগপত্র পেয়েছি। বিষয়টি এখনো বিবেচনাধীন রয়েছে; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।”
দলের ভেতরে এই পদত্যাগকে ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে দলীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপির অভ্যন্তরীণ এই পরিবর্তন দলটির ভবিষ্যৎ কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।