সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার দরগাপাড়ায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মখদুমিয়া জামে মসজিদ বাংলার ইসলাম প্রচারের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। বাংলার প্রখ্যাত ইসলাম প্রচারক হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন এই প্রাচীন মসজিদ আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ইতিহাস অনুযায়ী, আরব দেশের ইয়ামেন প্রদেশের শাসক বংশের উত্তরসূরি হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.) ১১৯২ থেকে ১১৯৬ সালের মধ্যে নদীপথে শাহজাদপুরে আগমন করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভাগ্নে কালীন দানিশমন্দ (রহ.), খাজা নূর (রহ.) ও খাজা আনোয়ার (রহ.)। ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে তারা এ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেন। তাঁর নাম অনুসারেই পরবর্তীতে এলাকার নাম রাখা হয় শাহজাদপুর।
বাংলার সুলতানি আমলে তাঁর নির্দেশনায় নির্মিত এই মসজিদটি বর্তমানে ‘মখদুমিয়া জামে মসজিদ’ নামে পরিচিত। ছোট ইট, চুন ও সুরকি দিয়ে নির্মিত মসজিদটি স্থাপত্যশৈলীতে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। মসজিদের ভেতরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫১ ফুট ৯ ইঞ্চি, প্রস্থ ৩১ ফুট ৫ ইঞ্চি এবং বাইরের অংশ আরও বড় পরিসরের। মসজিদটিতে মোট ১৫টি গম্বুজ এবং ২৪টি কালো পাথরের স্তম্ভ রয়েছে, যা এর দৃঢ়তা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। মসজিদের ভেতর ও বাইরে ফলমূল ও লতাপাতার নান্দনিক কারুকাজ দেখা যায়।
ধারণা করা হয়, এ মসজিদকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় ইসলাম ধর্ম ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় শাসক রাজা বিক্রম কেশরীর সঙ্গে সংঘর্ষে হযরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.) শহীদ হন। তাঁর মাজার মসজিদের পাশেই অবস্থিত, যা আজও ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত।
প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা এখানে সমবেত হন। এছাড়া প্রতি বছর চৈত্র মাসে এখানে দুই দিনব্যাপী ওরশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লাখো ভক্তের সমাগম ঘটে।
বর্তমানে এই ঐতিহাসিক মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর-এর তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত রয়েছে।
ঢাকা থেকে বাসযোগে শাহজাদপুর উপজেলার বিসিক বাসস্ট্যান্ডে নেমে রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সহজেই মখদুমিয়া জামে মসজিদ ও মাজারে পৌঁছানো যায়।
মসজিদের ইমাম ও খাদেম জানান, ইসলাম প্রচারের স্মৃতিবাহী এই মসজিদে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। তারা মসজিদটির সংরক্ষণ ও উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও উদ্যোগ কামনা করেছেন।