শিশুর অণ্ডকোষে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু সমস্যা তুলনামূলক সাধারণ হলেও কিছু অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর, যা সময়মতো চিকিৎসা না হলে অণ্ডকোষ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই শিশুর অণ্ডকোষে ব্যথা বা অস্বস্তিকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়।
শিশুর অণ্ডকোষে হঠাৎ তীব্র ব্যথার অন্যতম ভয়ংকর কারণ হলো টেস্টিকুলার টরশন বা অণ্ডকোষ প্যাঁচ খাওয়া। এ অবস্থায় অণ্ডকোষ যে নালি বা কর্ডের মাধ্যমে শরীরের সঙ্গে যুক্ত থাকে, সেটিতে মোচড় লেগে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই অণ্ডকোষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। এর লক্ষণ হিসেবে হঠাৎ তীব্র ব্যথা, অণ্ডকোষ ফুলে যাওয়া ও লালচে রঙ ধারণ করা দেখা যায়। এই সমস্যা যে কোনো বয়সে হতে পারে, তবে নবজাতক ও ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। জরুরি ডপলার আলট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হওয়া নিশ্চিত হলে দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়। লক্ষণ শুরু হওয়ার ৪–৬ ঘণ্টার মধ্যে অস্ত্রোপচার করা না গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অণ্ডকোষ রক্ষা করা সম্ভব হয় না।
অণ্ডকোষের ব্যথার আরেকটি কারণ হলো অ্যাপেনডিক্স টেস্টিসের টরশন। অ্যাপেনডিক্স টেস্টিস অণ্ডকোষের ওপর অবস্থিত একটি ছোট অঙ্গ, যা কখনো কখনো মোচড় খেতে পারে। এতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হলেও এটি টেস্টিকুলার টরশনের মতো মারাত্মক নয়। আলট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা যায় এবং সাধারণত ব্যথানাশক ওষুধ ও বিশ্রামের মাধ্যমেই চিকিৎসা সম্ভব হয়; বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না।
সংক্রমণজনিত কারণেও শিশুর অণ্ডকোষে ব্যথা হতে পারে। এপিডিডাইমাইটিস ও অরকাইটিস হলো অণ্ডকোষ ও এর সঙ্গে যুক্ত নালির প্রদাহ বা সংক্রমণ, যেখানে শুক্রাণু সংরক্ষিত থাকে। এ ক্ষেত্রে ব্যথা সাধারণত হঠাৎ শুরু না হয়ে ধীরে ধীরে বাড়ে এবং সঙ্গে ফোলাভাব দেখা যায়। সংক্রমণ ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসজনিত হতে পারে, যেমন মাম্পস ভাইরাস। যেসব শিশুর বারবার প্রস্রাবের সংক্রমণ হয়, তাদের মধ্যে এ সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের মাধ্যমে অধিকাংশ শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে।
খেলাধুলা বা দৌড়ঝাঁপের সময় আঘাত পাওয়াও অণ্ডকোষে ব্যথার একটি সাধারণ কারণ। হালকা আঘাতে সাময়িক ব্যথা ও অল্প ফোলা দেখা দিতে পারে, যা সাধারণত বিশ্রাম ও ব্যথানাশক ওষুধে সেরে যায়। তবে আঘাত যদি গুরুতর হয় এবং অণ্ডকোষ ফেটে যাওয়া বা ভেতরে রক্তক্ষরণের আশঙ্কা থাকে, তাহলে সেটিকে জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করতে হয় এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা জরুরি।
কিছু ক্ষেত্রে ইনগুইনাল হার্নিয়া থেকেও শিশুর অণ্ডকোষে ব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। ইনগুইনাল হার্নিয়ায় অন্ত্রের একটি অংশ নালির মধ্যে আটকে গেলে তাকে ইনকারসিরেটেড ইনগুইনাল হার্নিয়া বলা হয়। এটি যে কোনো বয়সী শিশুর হতে পারে এবং এটি একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি, যেখানে দ্রুত অস্ত্রোপচার অপরিহার্য।
সবশেষে বলা যায়, শিশুর অণ্ডকোষে যে কোনো ধরনের ব্যথা, ফোলাভাব বা অস্বাভাবিকতা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে গুরুতর জটিলতা এড়ানো সম্ভব।