চিকিৎসা ব্যর্থতা ঘটে, যখন কোনো রোগের চিকিৎসায় প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায় না এবং রোগীকে নতুন বা ভিন্ন চিকিৎসা নিতে হয়। স্ক্যাবিস পরজীবী সংক্রমণজনিত রোগ, যা মাইট দ্বারা সৃষ্ট, এবং দাদ হলো ছত্রাকজনিত সংক্রমণ। উভয়ই সংক্রামক, তবে স্ক্যাবিস তুলনামূলকভাবে বেশি ছোঁয়াচে।
চিকিৎসা ব্যর্থতার প্রধান কারণগুলো:
অসম্পূর্ণ চিকিৎসা: ওষুধ সময়মতো বা পুরো কোর্স না নেওয়া।
ভুল রোগ নির্ণয়: দাদকে একজিমা মনে করে স্টেরয়েড ব্যবহার করা বা অ্যালার্জি হিসেবে চিকিৎসা নেওয়া।
অবৈজ্ঞানিক ওষুধ সেবন: নিজে নিজে বা ফার্মেসির পরামর্শে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ নেওয়া।
পরিবেশগত প্রভাব: অ্যান্টিবায়োটিক ও স্টেরয়েডের অতিরিক্ত ব্যবহারে জীবাণুর প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি।
অন্যান্য কারণ: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, পুনঃসংক্রমণ, অপরিচ্ছন্নতা, দারিদ্র্য, চিকিৎসার খরচ বহন না করা।
চিকিৎসায় সফলতার জন্য করণীয়:
নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শে সঠিক রোগ নির্ণয়।
সম্পূর্ণ ওষুধ কোর্স শেষ করা।
পারিবারিক ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
সংক্রমণের উৎস চিহ্নিত করে পরিবার ও সহবাসীদের একযোগে চিকিৎসা।
পুনঃসংক্রমণ রোধে কাপড়, তোয়ালে ও বিছানার চাদর আলাদা রাখা।
রেজিস্ট্যান্সযুক্ত ওষুধ এড়ানো।
নিজে নিজে চিকিৎসা না করে সচেতনভাবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।
দাদ বা ফাংগাল সংক্রমণে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সঠিক পরামর্শ অপরিহার্য, কারণ কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সচেতনতা, সঠিক চিকিৎসা এবং নিয়ম মেনে চলাই স্ক্যাবিস ও দাদের চিকিৎসায় সফলতার মূল চাবিকাঠি।
লেখক: চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ
চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা
হটলাইন: ১০৬৭২, ০৯৬৭৮৮২২৮২২