আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের সর্বস্তরের জনগণ ভালো কিছু পাওয়ার আশায় এগারো দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। দেশের সিংহভাগ মানুষ বিভিন্ন সময়ে নানা রাজনৈতিক দলের কাছে বারবার প্রতারিত হয়েছেন। বিশেষ করে বিগত সরকারগুলো জনগণের সঙ্গে চরম অবহেলা করেছে।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নেই মানসম্মত শিক্ষা। মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারের সন্তানদের জন্য উচ্চশিক্ষা হয়ে উঠেছে প্রায় অসম্ভব—কারণ শিক্ষার ব্যয় অত্যন্ত বেশি। আবার অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা অর্জন করলেও ঘুষ ছাড়া চাকরি মিলছে না। ফলে ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে, আর গরিবেরা গরিবই থেকে যাচ্ছে।
অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবাও প্রায় অচল। সরকারি হাসপাতালগুলো দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য নেই পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। বিগত সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের দুর্নীতির কারণে দেশের ওষুধ শিল্পও নাজুক অবস্থায় পড়েছে। ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় দরিদ্র মানুষ প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছেন।
সরকারি সেবা নিতে নাগরিকদের প্রায় সব জায়গায় ঘুষ দিতে হচ্ছে—ভূমি মন্ত্রণালয়সহ অধিকাংশ দপ্তরে। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের আমলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়মিত নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে সরকারি মদদে। ফলে গত ষোল বছরে দেশের প্রায় আশি ভাগ মানুষ কোনো সঞ্চয় করতে পারেননি, এমনকি অর্থাভাবে সন্তানদের শিক্ষিত করতেও ব্যর্থ হয়েছেন।
দেশে সুশাসনের অভাব প্রকট। আইন ও প্রশাসন ঘুষনির্ভর হয়ে পড়ায় সাধারণ ও দরিদ্র মানুষ কোথাও সুবিচার পাননি। এককথায় দেশটি বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে—এমনটাই মনে করেন জনগণের বড় একটি অংশ। প্রায় ষাট ভাগ মানুষ পুলিশের কাছে যেতে ভয় পান, কারণ সেখানে ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না।
এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভুক্তভোগী জনগণের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ এগারো দলীয় জোটকে বিজয়ী করতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন সম্মানিত ভোটার, সাধারণ জনগণ ও ছাত্রসমাজ। জনগণের বিশ্বাস—এই জোট ক্ষমতায় এলে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি কমবে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা মানুষের নাগালে আসবে, সিন্ডিকেট নির্মূল হবে এবং দেশ সত্যিকার অর্থেই বসবাসযোগ্য হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এগারো দলীয় জোটের প্রতি আমারও রয়েছে অটল বিশ্বাস। এই জোটের মনোনীত প্রার্থীরা শিক্ষিত, মার্জিত ও সৎ। এ জোটে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ আরও গ্রহণযোগ্য দল। সম্মানিত আল্লামা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন দলগুলোর উপস্থিতিও জনগণের আস্থা বাড়িয়েছে।
আসুন, সব ভেদাভেদ ভুলে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হই। সারা দেশে এগারো দলীয় জোটের প্রার্থীদের নিজ নিজ প্রতীকে বিজয়ী করে আনি। জনমনে আলোচনা চলছে—এই জোট দুই শতাধিক আসন পেয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে পারে।
শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত দেশ—
“এগারো দলীয় জোট ক্ষমতায় আসুক, ভালো কিছু দেশের হোক।”
ইনশাআল্লাহ, সত্যিই ভালো কিছু হবে।
লেখক: অথই নূরুল আমিন
কবি, প্রভাবশালী কলামিস্ট ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান সমন্বয়ক, জাতীয় মানবসম্পদ উইং
(বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি সংগঠন)