শৈশব থেকে যাদের পরম মমতায় মা-বাবা হিসেবে জেনে এক ছাদের নিচে বড় হয়েছেন, জীবনের ১৮ বসন্ত পার করার পর হঠাৎ একদিন ক্লাউডিয়া চৌধুরী জানতে পারেন—তারা তার জৈবিক মা-বাবা নন। মুহূর্তেই যেন পায়ের তলার মাটি সরে যায় তার; তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে শৈশবের সব স্বপ্ন আর সাজানো সংসার।
রাজশাহীর এই আলোচিত ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে, কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই ২০২৩ সালের জুনে ক্লাউডিয়াকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, তার অজান্তেই কৌশলে বদলে ফেলা হয়েছে জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদসহ যাবতীয় সরকারি নথিপত্রে থাকা মা-বায়ের নাম। নিজের আসল পরিচয় আর শেকড়ের সন্ধানে এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এই তরুণী, যার মনে এখন একটাই হাহাকার—'আমি আসলে কে?'
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জন্মের পর থেকেই ডা. শিপ্রা চৌধুরী এবং ডা. ওবায়দুর রহমান চৌধুরীকে নিজের জন্মদাতা হিসেবে জানতেন ক্লাউডিয়া। তাদের আদর-ভালোবাসায় বড় হয়ে ওঠা এই তরুণীর জীবন বিষিয়ে ওঠে উত্তরাধিকার সম্পত্তি আর পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে। ২০২৩ সালের শুরুতে ডা. শিপ্রা চৌধুরী সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে ক্লাউডিয়ার জন্মনিবন্ধনে বাবা-মা হিসেবে নিজেদের নাম বাদ দিয়ে মো. বাবুল ও টগরী বেগম নামের এক দম্পতির নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জন্মের পর থেকেই ডা. শিপ্রা চৌধুরী এবং ডা. ওবায়দুর রহমান চৌধুরীকে নিজের জন্মদাতা হিসেবে জানতেন ক্লাউডিয়া। তাদের আদর-ভালোবাসায় বড় হয়ে ওঠা এই তরুণীর জীবন বিষিয়ে ওঠে উত্তরাধিকার সম্পত্তি আর পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে। ২০২৩ সালের শুরুতে ডা. শিপ্রা চৌধুরী সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে ক্লাউডিয়ার জন্মনিবন্ধনে বাবা-মা হিসেবে নিজেদের নাম বাদ দিয়ে মো. বাবুল ও টগরী বেগম নামের এক দম্পতির নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।
এর ধারাবাহিকতায় জেএসসি ও এসএসসির সনদও পরিবর্তন করা হয়। অথচ যাদের নাম তার নতুন পরিচয় হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের ক্লাউডিয়া কখনো দেখেননি। এমনকি যে টগরী বেগমকে তার মা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই নারীও দাবি করেছেন যে ক্লাউডিয়া তার সন্তান নন এবং ডা. শিপ্রা চৌধুরী তার নাম ব্যবহার করে জালিয়াতি করেছেন। অন্যদিকে, জৈবিক বাবা হিসেবে পরিচয় পাওয়া মো. বাবুল জানান, ২০০৮ সালে মাত্র ১১ মাস বয়সে ক্লাউডিয়াকে দত্তক দেওয়া হয়েছিল এই শর্তে যে, তারা আর কখনো মেয়ের পরিচয় দাবি করতে পারবেন না।
এই পরিচয় সংকটের কারণে ক্লাউডিয়ার শিক্ষাজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। কলেজে ভর্তি ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরিতে দেখা দিয়েছে চরম আইনি জটিলতা। অভিযোগ রয়েছে, তার নামে থাকা ৫ কাঠা জমিও কৌশলে ফেরত নিতে মামলা ঠুকে দিয়েছেন ডা. শিপ্রা। এমন পরিস্থিতিতে একদিকে পরিচিত পরিবারের বঞ্চনা, অন্যদিকে অচেনা এক শেকড়ের টান—সব মিলিয়ে চরম মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
এই পরিচয় সংকটের কারণে ক্লাউডিয়ার শিক্ষাজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। কলেজে ভর্তি ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরিতে দেখা দিয়েছে চরম আইনি জটিলতা। অভিযোগ রয়েছে, তার নামে থাকা ৫ কাঠা জমিও কৌশলে ফেরত নিতে মামলা ঠুকে দিয়েছেন ডা. শিপ্রা। এমন পরিস্থিতিতে একদিকে পরিচিত পরিবারের বঞ্চনা, অন্যদিকে অচেনা এক শেকড়ের টান—সব মিলিয়ে চরম মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সচিব জানান, কাউন্সিলরের নির্দেশে অনেকটা নিয়ম বহির্ভূতভাবেই বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এদিকে পুরো বিষয়টি নিয়ে ডা. শিপ্রা চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত রূঢ় আচরণ করেন এবং কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। নিজের অস্তিত্ব আর নাগরিক অধিকার ফিরে পেতে এখন আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পরিচয়হীনতায় ভোগা অসহায় এই তরুণী।