Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / আন্তর্জাতিক / সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে মেঘালয়ে বিক্ষোভ - Chief TV

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে মেঘালয়ে বিক্ষোভ - Chief TV

2026-06-08  ডেস্ক রিপোর্ট  17 views
সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে মেঘালয়ে বিক্ষোভ - Chief TV

বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় একটি সীমান্তঘেঁষা গ্রামের বাসিন্দারা। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট দাবি, এই বেড়াটি আন্তর্জাতিক ‘জিরো লাইন’ বা শূন্যরেখা বরাবর নির্মাণ করতে হবে। তা না হলে তাদের পুরো গ্রামটি ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
 
মেঘালয়ের ইস্ট খাসি হিলস জেলার পিনুরসলা অঞ্চলের জিরো লাইনে অবস্থিত লিংখং গ্রামে রোববার এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে চলমান বেড়া নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবিতে গ্রামবাসী সাব-ডিভিশনাল কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে লিংখং গ্রামসহ সীমান্তবর্তী আরও কয়েকটি এলাকার বাড়িঘর বাংলাদেশের সীমানা থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরত্বে অবস্থিত। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, জিরো লাইন থেকে অন্তত ১৫০ গজ ভেতরে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এই নিয়ম মানতে গেলে ভারতীয় গ্রামগুলো বেড়ার ওপারে অর্থাৎ বাংলাদেশের দিকে পড়ে যাবে।
 
লিংখং গ্রামের প্রধান রামু আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সীমান্তে বেড়া দেওয়ার বিরোধী নই, কিন্তু আমরা চাই বেড়াটি যেন জিরো লাইনেই নির্মাণ করা হয়। প্রস্তাবিত বর্তমান নকশা অনুযায়ী বেড়া নির্মিত হলে আমাদের গ্রামটি নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে পড়ে যাবে, যা আমাদের যাতায়াত, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎকে চরম হুমকির মুখে ফেলবে।” স্থানীয় বাসিন্দা রিমা খংসদিরও একই উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করার অংশ হিসেবেই এই বেড়া নির্মাণের কাজ চলছে। বাংলাদেশের সঙ্গে মেঘালয়ের ৪৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার মধ্যে দুর্গম অঞ্চল ও স্থানীয় আপত্তির কারণে এখনো প্রায় ৮০ কিলোমিটার এলাকা বেড়ামুক্ত রয়ে গেছে।
 
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লিংখং গ্রামে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের স্বরাষ্ট্র বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেসব এলাকায় জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে জিরো লাইন বরাবর ‘সিঙ্গেল-রো’ বেড়া নির্মাণের বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করেছে ভারত।
 
তবে বাংলাদেশের নতুন সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এই প্রস্তাবের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

Share: