Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / জাতীয় / আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, ট্রাইব্যুনালে ৬ আসামি - Chief TV

আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, ট্রাইব্যুনালে ৬ আসামি - Chief TV

2026-06-14  ডেস্ক রিপোর্ট  28 views
আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, ট্রাইব্যুনালে ৬ আসামি - Chief TV
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে এই রায় প্রকাশ করে।
 
একই সাথে চলতি মাসেই ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে, এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আদালত পাড়ায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
 
অন্যদিকে, আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর চাঞ্চল্যকর মামলায় দণ্ডিত আসামিপক্ষ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে একাধিক আইনি ভিত্তি (গ্রাউন্ড) উত্থাপন করেছে। আপিল আবেদনে আসামিপক্ষের দাবি, প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও প্রমাণে আসামিদের সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়নি এবং সাক্ষীদের বক্তব্যেও বেশ কিছু পরস্পরবিরোধিতা রয়েছে।

আলোচিত আবু সাঈদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন আসামি হলেন— পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনেই বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ এই মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৩০ জন।
 
এর মধ্যে ৬ জন আসামি বর্তমানে গ্রেপ্তার আছেন, যাদের আজ কঠোর নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনালে আনা এই ৬ আসামি হলেন— বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ এই মামলার বাকি ২৪ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
 
পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন সাবেক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমান, সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল ও এ কে এম আমির হোসেন, সাবেক নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া এবং সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মাহাবুবার রহমান।
 
এ ছাড়াও মামলার আসামি চিকিৎসক মো. সরোয়ার হোসেনও (চন্দন) পলাতক রয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে রংপুর মহানগর পুলিশের (आरपीएमपी) সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান, আরপিএমপির সাবেক উপকমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. শাহ নূর আলম পাটোয়ারী, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম এবং সাবেক এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়ও এই মামলার পলাতক আসামি।
 
অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বেরোবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পোমেল বড়ুয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাফুজুর রহমান, সাবেক সহসভাপতি মো. ফজলে রাব্বি ও মো. আখতার হোসেন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ ও ধনঞ্জয় কুমার, সাবেক দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন এবং সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদুল হাসান পলাতক রয়েছেন।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন।
 
দুই হাত প্রসারিত করে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নিরস্ত্র সাঈদের ওপর পুলিশের নির্বিচার গুলি বর্ষণের সেই ভিডিও সারা বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডই মূলত ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ দেয় এবং তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসকের পতনের পথ সুগম করে।

Share: