নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে চার উইকেটের জয়ের পর আইসিসির সর্বশেষ পুরুষদের র্যাঙ্কিংয়ে আবারও নম্বর ওয়ান ব্যাটার হলেন ভারতের তারকা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। ওই ম্যাচে ৯১ বলে ৯৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ৩০০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয় নিশ্চিত করে ভারত। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের আরও কাছে পৌঁছে দ্বিতীয় স্থানে নিজের অবস্থান সুসংহত করেন কোহলি।
অস্ট্রেলিয়ায় ৫০ ওভারের সিরিজের পর থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী এই ব্যাটার। তার শেষ পাঁচ ইনিংসে রান—৭৪*, ১৩৫, ১০২, ৬৫* ও ৯৩—যা তার ‘পার্পল প্যাচ’-এর স্পষ্ট প্রমাণ।
২০২১ সালের জুলাইয়ের পর এই প্রথম ওয়ানডে ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ফিরলেন কোহলি। ২০১৩ সালের অক্টোবরে প্রথমবার নম্বর ওয়ান হয়েছিলেন তিনি। এটি তার ক্যারিয়ারে ১১তমবার শীর্ষস্থান দখল। এখন পর্যন্ত মোট ৮২৫ দিন তিনি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকেছেন—যা কোনো ভারতীয় ক্রিকেটারের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং সব ক্রিকেটারের মধ্যে দশম সর্বোচ্চ।
নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার ড্যারিল মিচেল প্রথম ওয়ানডেতে ৭১ বলে ৮৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে ওয়ানডে ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়েছেন। ক্যারিয়ারসেরা রেটিং নিয়ে তিনি কোহলির মাত্র এক পয়েন্ট পেছনে অবস্থান করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ফর্মে থাকা মিচেল শেষ পাঁচ ওয়ানডের তিনটিতে ফিফটি এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি সেঞ্চুরি করেছেন। তার সতীর্থ ডেভন কনওয়ে তিন ধাপ এগিয়ে ২৯তম স্থানে উঠেছেন।
ওয়ানডে বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের মোহাম্মদ সিরাজ পাঁচ ধাপ এগিয়ে ১৫তম স্থানে উঠেছেন, যেখানে তিনি বাংলাদেশের মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে যৌথভাবে অবস্থান করছেন। নিউজিল্যান্ডের পেসার কাইল জেমিসন ভারতের বিপক্ষে ক্যারিয়ারসেরা চার উইকেট নিয়ে ২৭ ধাপ লাফিয়ে ৬৯তম স্থানে উঠে এসেছেন। এই অবস্থানে তিনি ভারতের আর্শদীপ সিংয়ের সঙ্গে যৌথভাবে রয়েছেন।
অ্যাশেজ সিরিজ শেষ হওয়ার পর টেস্ট র্যাঙ্কিংয়েও এসেছে বড় পরিবর্তন। সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেড। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজে সর্বোচ্চ ৬২৯ রান (গড় ৬২.৯০), তিনটি সেঞ্চুরিসহ, করার সুবাদে তিনি সাত ধাপ এগিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠেছেন।
টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে আরও উন্নতি করেছেন জ্যাকব বেথেল। অ্যাশেজের শেষ টেস্টে অভিষেক সেঞ্চুরির পর তিনি ২৫ ধাপ এগিয়ে ৫২তম স্থানে উঠেছেন (টম ব্লান্ডেলের সঙ্গে যৌথভাবে)। মাইকেল নেসার সাত ধাপ এগিয়ে ৪৭তম স্থানে উঠে এসেছেন।
অ্যাশেজ ফাইনালে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে বিউ ওয়েবস্টার তিন বিভাগেই উন্নতি করেছেন—ব্যাটিংয়ে ছয় ধাপ এগিয়ে ৫৮তম, বোলিংয়ে ২৯ ধাপ এগিয়ে ৮০তম (জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে যৌথভাবে) এবং অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ে ২২ ধাপ এগিয়ে ২৬তম স্থানে (সাইমন হার্মারের সঙ্গে যৌথভাবে)।
টি-টোয়েন্টি বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ ড্র করা পারফরম্যান্সের সুবাদে শ্রীলঙ্কার লেগ স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা তিন ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠেছেন।
পাকিস্তানের পেসার সালমান মির্জা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে তিন উইকেট নিয়ে ১৬ ধাপ এগিয়ে ১৯তম স্থানে উঠেছেন। ব্যাট হাতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে সাহিবজাদা ফারহান এক ধাপ এগিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠেছেন, আর অধিনায়ক সালমান আঘা ১৩ ধাপ উন্নতি করে ৪১তম স্থানে পৌঁছেছেন।
অলরাউন্ডারদের তালিকায় সাইম আইয়ুব এক ধাপ পিছিয়ে পড়ায় জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা আবারও শীর্ষস্থান দখল করেছেন।