Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
হোম / রাজশাহী বিভাগ / সারাদেশ / বগুড়া / বিবাহ গোপন রেখে পুলিশে চাকরি, কর্মরত বগুড়ায় - Chief TV

বিবাহ গোপন রেখে পুলিশে চাকরি, কর্মরত বগুড়ায় - Chief TV

2026-04-21  ডেস্ক রিপোর্ট  76 views
বিবাহ গোপন রেখে পুলিশে চাকরি, কর্মরত বগুড়ায় - Chief TV

সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের বারইঘাট সেনপাড়া এলাকার ফজলার রহমানের মেয়ে জুলেখা খাতুন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের একজন কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বগুড়ায়। তবে তার বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ বিবাহের তথ্য গোপন রেখে তিনি পুলিশে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জুলেখা খাতুন ২০২০ সালের ৫ মার্চ বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে যোগদান করেন। তার বিপি নম্বর- ০১২০২৩৫৯৭১। কিন্তু পুলিশে যোগদানের প্রায় ১৭ মাস আগে, ২০১৮ সালের ১৩ নভেম্বর একই উপজেলার হাট-পাঙ্গাসী এলাকার আব্দুস ছাত্তারের ছেলে আল-আমিনের সঙ্গে তার বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়েতে ২ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়েছিল বলে কাবিননামায় উল্লেখ রয়েছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলেখা খাতুন পুলিশে চাকরির সময় নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে উপস্থাপন করেন। অথচ তার বিবাহের কাবিননামা, কাজীর বক্তব্য এবং বিয়ে পড়ানো হুজুরের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য।

জুলেখা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। বরং তার স্বামী আল-আমিন এই প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করেন। এ সংক্রান্ত কথোপকথনের ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে।

আল-আমিন দাবি করেন, তাদের বিবাহ ২০২৪ সালে হয়েছে। তবে কী কারণে একজন সাংবাদিককে ‘ম্যানেজ’ করার প্রয়োজন পড়লো সেই প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে পারেননি তিনি।

এ বিষয়ে বিয়ে পড়ানো হুজুর লিয়াকত আলী বলেন, “আমি তো অনেক বিয়ে পড়াই। তবে ২০২৪ সালে জুলেখা খাতুন ও আল-আমিনের বিয়ে পড়াইনি। আরও অনেক আগে তাদের বিয়ে পড়িয়েছি। পুরো সময়টা আমার মনে নেই।”

অন্যদিকে, কাবিননামা অনুযায়ী বিয়ে রেজিস্ট্রি করা কাজী আকবর হোসেন বলেন, “২০১৮ সালে জুলেখা খাতুন ও আল-আমিনের বিবাহ রেজিস্ট্রি করেছি। আমি বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। ২০২৪ সালের বিয়ের বিষয়ে আমার জানা নেই। যদি সে বিবাহের তথ্য গোপন করে পুলিশে চাকরি নিয়ে থাকে, তাহলে সেটি বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তার শাস্তি হওয়া উচিত।”

স্থানীয় সূত্র বলছে, জুলেখা খাতুনের বিয়ের বিষয়টি এলাকায় অনেকেই জানতেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশে নিয়োগের সময় কীভাবে এই তথ্য যাচাই হয়নি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের ভূমিকাও এখন প্রশ্নের মুখে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বগুড়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান সোহাগ বলেন, “যেহেতু ওই পুলিশ কনস্টেবল সিরাজগঞ্জ জেলায় নিয়োগপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে বগুড়ায় কর্মরত, তাই তার সকল তথ্য সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশকে পাঠানো হবে। এরপর দুই জেলা মিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, “যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এখন দেখার বিষয়, বিবাহের তথ্য গোপন করে চাকরিতে যোগদানের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে কী বেরিয়ে আসে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদৌ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।


Share: