ভারতের আলোর উৎসব দীপাবলি এবার বহু পরিবারের জীবনে নেমে এনেছে অন্ধকারের ছায়া। যে বাজির শব্দে আনন্দ ছড়ানোর কথা, সেই বাজিই পরিণত হয়েছে এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে। দেশটির মধ্যপ্রদেশে ‘কার্বাইড গান’ নামক দেশীয় বাজির বন্দুক বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ১৪ জন শিশু স্থায়ীভাবে তাদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আরও ১২২ জনের বেশি শিশু চোখে গুরুতর আঘাত নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। খবর এনডিটিভির।
এনডিটিভি জানায়, মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ রুপিতে বিক্রি হওয়া এই যন্ত্রগুলো দেখতে খেলনার মতো হলেও বিস্ফোরণের সময় তা বোমার মতো শব্দ করছে। শিশুরা প্লাস্টিক বা টিনের পাইপে গানপাউডার, দেশলাইয়ের মাথা ও ক্যালসিয়াম কার্বাইড মিশিয়ে এই বন্দুক তৈরি করছে। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সৃষ্ট তীব্র বিস্ফোরণ সরাসরি মুখ ও চোখে আঘাত হানছে, ফলে মারাত্মক দগ্ধ ও দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনা ঘটছে।
হামিদিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৭ বছর বয়সী নেহা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমরা বাড়িতে বানানো কার্বাইড গান কিনেছিলাম। সেটা ফাটতেই আমার এক চোখ পুরোপুরি পুড়ে যায়। এখন আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।”
আরেক আহত কিশোর রাজ বিশ্বকর্মা জানায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা ভিডিও দেখে সে নিজেই এমন একটি বন্দুক বানাতে চেয়েছিল। কিন্তু বিস্ফোরণের সময় বন্দুকটি তার মুখের সামনেই ফেটে যায়।
ভোপাল, ইন্দোর, জবলপুর ও গ্বালিয়রের বিভিন্ন হাসপাতালের চোখের ওয়ার্ড এখন আহত শিশুতে পূর্ণ। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ‘কার্বাইড গান’ কোনো খেলনা নয়—এটি একটি বিপজ্জনক বিস্ফোরক।
হামিদিয়া হাসপাতালের সিএমএইচও ডা. মানীশ শর্মা জানান,
“বিস্ফোরণের সময় এতে ধাতব কণিকা ও কার্বাইডের বাষ্প নির্গত হয়, যা সরাসরি রেটিনা পুড়িয়ে ফেলে। অনেকের আইরিস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে যাচ্ছে।”
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বিদিশা জেলা, যেখানে সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় বাজারে এসব যন্ত্র প্রকাশ্যে বিক্রি হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্ত কর্মকর্তা আর কে মিশ্র জানিয়েছেন, যারা এই কার্বাইড গান বিক্রি বা প্রচার করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনস্টাগ্রাম রিলস ও ইউটিউব শর্টসে ভাইরাল হওয়া ‘ফায়ারক্র্যাকার গান চ্যালেঞ্জ’ এই বিপজ্জনক প্রবণতার মূল উৎস হয়ে উঠেছে।
দীপাবলির আনন্দে যেন আর কোনো পরিবার না হারায় তাদের সন্তানের আলো—এমন আহ্বানই এখন চিকিৎসক ও অভিভাবকদের একমাত্র দাবি।