ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের অধিকার সুরক্ষায় বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ কার্যকর করতে একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—দুই বছরের আগে কোনো অবস্থাতেই বাড়ি ভাড়া বাড়ানো যাবে না।
মঙ্গলবার গুলশান–২ নগর ভবনে ‘ঢাকার বাড়িভাড়া সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ’ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
তিনি বলেন, দেশে একটি প্রচলিত রীতি রয়েছে—প্রতি বছর জানুয়ারি এলেই ভাড়া বাড়ানো হয়। কিন্তু ভাড়া বাড়ানোর উপযুক্ত সময় হলো অর্থবছরের জুন–জুলাই মাস। কারণ, বাড়ি ভাড়ার ভিত্তিতেই সিটি করপোরেশন ট্যাক্স নির্ধারণ করে। সুতরাং, যে হারে ট্যাক্স দেওয়া হয়, ভাড়াও সেই যুক্তিসঙ্গত হারে সমন্বয় করতে হবে।
এ সময় তিনি ভাড়াটিয়াদের অধিকার নিশ্চিত করতে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী ডিএনসিসি প্রণীত নির্দেশিকাগুলো পাঠ করে শোনান। নির্দেশিকাগুলো সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হলো—
ডিএনসিসির বাড়িভাড়া সংক্রান্ত নির্দেশিকা
১. বাড়ির মালিককে অবশ্যই বাড়িটি বসবাসের উপযোগী অবস্থায় রাখতে হবে।
২. গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানিসহ সব ইউটিলিটি সেবা এবং নিয়মিত গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সমস্যা হলে ভাড়াটিয়া বাড়িওয়ালাকে জানাবেন এবং বাড়িওয়ালা দ্রুত সমাধান করবেন।
৩. বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া (বাড়িওয়ালার পূর্বানুমতি সাপেক্ষে) ছাদ, বারান্দা ও সামনের খোলা স্থানে সবুজায়নে অংশ নিতে পারবেন।
৪. অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়িওয়ালা শর্তসাপেক্ষে ভাড়াটিয়াদের ছাদ ও মূল ফটকের চাবি প্রদান করবেন।
৫. ভাড়াটিয়া মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভাড়া পরিশোধ করবেন। প্রতিমাসে বাড়িওয়ালাকে লিখিত রশিদ দিতে হবে এবং ভাড়াটিয়াকে স্বাক্ষরযুক্ত রশিদ সংগ্রহ করতে হবে।
৬. ভাড়াটিয়ার বাড়িতে যেকোনো সময় প্রবেশাধিকার থাকবে। নিরাপত্তা বা শৃঙ্খলার স্বার্থে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাড়িওয়ালাকে ভাড়াটিয়াকে জানাতে হবে এবং মতামত নিতে হবে।
৭. নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে দুই বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ভাড়া বাড়ানোর সময় হবে জুন–জুলাই মাস।
৮. দুই বছরের আগে কোনো অবস্থাতেই ভাড়া বৃদ্ধি করা যাবে না। দুই বছর পর উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা যাবে।
৯. নির্ধারিত সময়ে ভাড়া না দিলে প্রথমে মৌখিকভাবে সতর্ক করতে হবে। এরপরও বকেয়া থাকলে দুই মাসের লিখিত নোটিশ দিয়ে চুক্তি বাতিল ও উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
১০. আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ দুই মাসের নোটিশ দিয়ে ভাড়ার চুক্তি বাতিল করতে পারবেন।
১১. মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে বার্ষিক ভাড়ার পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বাড়ির বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
১২. ভাড়ার সব শর্ত লিখিত চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে—ভাড়া বৃদ্ধি, অগ্রিম জমা ও বাড়ি ছাড়ার সময়সহ সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
১৩. বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় ১ থেকে ৩ মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেওয়া যাবে না।
১৪. সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া সমিতি গঠন করতে হবে। ভাড়াসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে এসব সমিতি ভূমিকা রাখবে।
১৫. যেকোনো বিরোধ প্রথমে ওয়ার্ড বা জোনভিত্তিক সমিতির মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। সমাধান না হলে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাতে হবে।
১৬. এই নির্দেশিকা বাস্তবায়নে ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের সচেতন করতে ডিএনসিসি জোনভিত্তিক মতবিনিময় ও আলোচনা সভার আয়োজন করবে।