বিচারব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং বিচারপ্রার্থী মানুষের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে দ্বিতীয় ধাপে একযোগে আটটি জেলায় ই-বেইলবন্ড সেবা চালু করেছে সরকার। বুধবার সকালে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবার উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
নতুন করে যেসব জেলায় ই-বেইলবন্ড সেবা চালু হয়েছে, সেগুলো হলো— মানিকগঞ্জ, বান্দরবান, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, মৌলভীবাজার, পঞ্চগড়, ঝালকাঠি ও শেরপুর। এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলায় এই সেবা চালু করা হয় এবং সেখানে এর কার্যক্রম সফলভাবে চলমান থাকায় পরবর্তী ধাপে আরও আটটি জেলায় সম্প্রসারণ করা হলো।
ই-বেইলবন্ড চালুর ফলে জামিন প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত ও সহজ হয়েছে। এখন অনলাইনে বেইলবন্ড দাখিলের মাধ্যমে এক ঘণ্টার মধ্যেই একজন আসামিকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. আসিফ নজরুল বলেন, আগে জামিন পেতে বহু ধাপ পেরোতে হতো, এতে সময় ও অর্থ উভয়ই অপচয় হতো এবং সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। অনেক ক্ষেত্রে জামিন পেতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেত। ই-বেইলবন্ড চালুর ফলে পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল হওয়ায় কে কখন স্বাক্ষর করলেন—সব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করার সুযোগ থাকবে না।
তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সব ৬৪টি জেলায় এই সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে সফল বাস্তবায়নের পর আরও আটটি জেলায় সেবা চালু হওয়ায় এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। হাতে থাকা সময়ের মধ্যেই আরও কয়েকটি জেলায় ই-বেইলবন্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আইন উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই দেশের সব জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যৎ সরকার এই ব্যবস্থা চালু রাখবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি একটি অত্যাবশ্যক ও জনবান্ধব সেবা। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তারা এই ব্যবস্থায় বাধা দেবে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই।
তিনি আরও বলেন, প্রচলিত বেইলবন্ড দাখিল পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল ই-বেইলবন্ড চালু করা বিচারব্যবস্থা আধুনিকীকরণের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে বিচারপ্রার্থী মানুষ, কারা প্রশাসন, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের সুফল পাবেন।
অনুষ্ঠানে সচিবালয় প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন, অতিরিক্ত সচিব এস. এম. এরশাদুল আলম ও মো. খাদেম উল কায়েস, যুগ্ম সচিব রুহুল আমীন ও এম. এ. আউয়ালসহ আইন ও বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।