ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আগামী ৭ জানুয়ারি চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করা হবে। এ তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডকে অন্তর্বর্তী সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। মামলাটিতে ইতোমধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের মধ্যেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংস ও নাশকতামূলক ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, সহযোগীর ছদ্মবেশে ফ্যাসিবাদী শক্তির এজেন্ট বা নাশকতাকারীরা যেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক দোষারোপের সুযোগ নিয়ে যাতে নাশকতাকারীরা পার পেয়ে না যায়, সেদিকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সারাদেশে চলমান শৈত্যপ্রবাহের কথাও তুলে ধরেন নাসিমুল গণি। তিনি বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও মহাসড়কে দৃশ্যমানতা কমে যাচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ কারণে যানবাহনের চালকদের সতর্কভাবে গাড়ি চালানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রতিরোধের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া সভায় বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, চোরাচালান ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে কঠোর নজরদারি এবং পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে সীমান্ত ও পার্বত্য এলাকায় নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব।