বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান না থাকলে গণতন্ত্রের দাবিদার হওয়া যায় না।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতাতেই দেশে ২০২৬ সালের নির্বাচন সম্ভব হয়েছে।
যারা জীবন ও রক্তের বিনিময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছেন, তাদের অবদানকে অস্বীকার বা উপহাস করা আত্মঘাতী রাজনৈতিক আচরণের শামিল।
শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় জামায়াত গণভোটের পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিল। তবে সে সময় সরকার প্রকাশ্যে গণভোটের পক্ষে না থাকলেও পরে জনমতের চাপে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। তিনি দাবি করেন, গণভোটে অংশ নেওয়া বিপুলসংখ্যক মানুষের মতামতের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।
তিনি বলেন, সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হলেও জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। এখনো সময় আছে গণভোটের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার।
সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক পদে নিয়োগ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
নারায়ণগঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একসময় শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত এ শহর আজ নানা অপরাধ ও সহিংস ঘটনার কারণে ভিন্ন পরিচয়ে আলোচিত হচ্ছে। অতীতের আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর পূর্ণাঙ্গ বিচার নিয়ে এখনো মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জে নতুন করে কোনো ‘গডফাদার’ রাজনীতির উত্থান হোক, তা জনগণ চায় না। রাজনীতিতে জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল জব্বারের নাম ঘোষণা করেন।
সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।